যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ৪৫ হাজার একরজুড়ে বিস্তৃত বিস্টি/ডি-না-জিন ওয়াইল্ডারনেস। অদ্ভুত আকৃতির হাজারো শিলা, খাড়া পাথরের স্তম্ভ ও বিস্তীর্ণ নির্জন প্রান্তর মিলিয়ে এই এলাকা দেখতে অনেকটা অন্য কোনো গ্রহের ভূদৃশ্যের মতো। প্রচলিত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে গিয়ে প্রকৃতির বৈচিত্র্য দেখতে চান এমন ভ্রমণকারীদের জন্য এটি হতে পারে ব্যতিক্রমী এক গন্তব্য।
পাথরের রাজ্যে ‘হুডু সিটি’
বিউরো অব ল্যান্ড ম্যানেজমেন্টের পরিচালনায় থাকা এই সংরক্ষিত এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে প্রাকৃতিক ক্ষয়ের ফলে তৈরি হয়েছে বিচিত্র সব শিলাগঠন। এর মধ্যে খাড়া পাথরের স্তম্ভগুলো ‘হুডু’ নামে পরিচিত।
প্রকৃতির দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয় ও পরিবর্তনের ফলে তৈরি এসব পাথরের কোনোটি মানুষের মতো, আবার কোনোটি প্রাণী বা কল্পিত চরিত্রের আকৃতি ধারণ করেছে। এলাকার কিছু অংশের নামও দৃশ্যের সঙ্গে বেশ মানানসই। যেমন ‘এলিয়েন এগ হ্যাচারি’ ও ‘হুডু সিটি’।
সূর্যোদয়-সূর্যাস্তে বদলে যায় ভূদৃশ্য
বিস্তীর্ণ পাথুরে প্রান্তরের সৌন্দর্য সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়। সূর্যের আলো শিলাগঠনের ওপর পড়লে পাথরের রং ও ছায়ায় তৈরি হয় নাটকীয় পরিবর্তন। তাই ছবি তুলতে চাইলে ভোর বা বিকেলের সময় বেছে নেওয়া ভালো।
শুধু অদ্ভুত শিলাগঠনই নয়, এই এলাকায় জীবাশ্ম ও পাথরে পরিণত কাঠেরও সন্ধান মিলতে পারে। ফলে ভূতত্ত্ব ও প্রাগৈতিহাসিক প্রকৃতিতে আগ্রহী ভ্রমণকারীদের কাছেও জায়গাটি আকর্ষণীয়।
ভ্রমণের আগে প্রস্তুতি জরুরি
বিস্টি/ডি-না-জিন সাধারণ পর্যটনকেন্দ্রের মতো সাজানো নয়। সংরক্ষিত বন্য এলাকার ভেতরে চলাচলের জন্য অনেকটা পথ হেঁটে অথবা ঘোড়ায় চড়ে পাড়ি দিতে হয়। বেশির ভাগ পথ দুর্গম এবং স্পষ্টভাবে চিহ্নিত নয়। তাই অভিজ্ঞতা ও প্রস্তুতি ছাড়া সেখানে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কও দুর্বল হতে পারে। যাত্রার আগে প্রয়োজনীয় মানচিত্র মুঠোফোনে সংরক্ষণ করা বা ছাপা মানচিত্র সঙ্গে রাখা ভালো। পর্যাপ্ত পানি নেওয়াও অত্যন্ত জরুরি।
নির্জন প্রান্তর, অদ্ভুত পাথরের গঠন ও সময়ের সাক্ষী হয়ে থাকা জীবাশ্ম, সব মিলিয়ে বিস্টি/ডি-না-জিন তাদের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয়, যারা প্রচলিত পর্যটনপথের বাইরে গিয়ে প্রকৃতির ভিন্ন রূপ দেখতে চান।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গন্তব্য: বিস্টি/ডি-না-জিন ওয়াইল্ডারনেস
অবস্থান: নিউ মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র
আয়তন: প্রায় ৪৫ হাজার একর
বিশেষ আকর্ষণ: হুডু, বিচিত্র শিলাগঠন, জীবাশ্ম ও পাথরে পরিণত কাঠ
সেরা সময়: সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের কাছাকাছি সময়
সতর্কতা: দুর্গম পথ, দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্ক ও পানির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিতে হবে।