পর্যটন মৌসুমের শেষ লগ্নে এসেও কাঙ্ক্ষিত পর্যটকের দেখা নেই দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে। মৌসুমজুড়ে পর্যটক কম থাকায় দ্বীপটির পর্যটননির্ভর অর্থনীতি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। হোটেল-মোটেল, খাবার দোকান, ভ্যানচালক, জেটিঘাট শ্রমিক, ডাব, চা ও শুঁটকি বিক্রেতাসহ শত শত মানুষ পড়েছেন চরম আর্থিক সংকটে।
এক প্রতিবেদনে দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যম জাগো নিউজ এ খবর জানিয়েছে। জাগো নিউজের সংবাদটি পড়তে পারেন এই লিংকে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পরিবেশ সংরক্ষণের অজুহাতে সরকার এবার মাত্র দুই মাস পর্যটকদের রাতযাপনের অনুমতি দেয়। প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক যাওয়ার সুযোগ থাকলেও বাস্তবে সে সংখ্যা কখনোই পূরণ হয়নি। ফলে মৌসুমজুড়ে প্রত্যাশিত আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
পর্যটক কমার পেছনে যাতায়াত জটিলতাকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আগে ইনানী ও টেকনাফের দমদমিয়া জেটিঘাট ব্যবহার করে স্বল্প সময়ে জাহাজে সেন্টমার্টিন পৌঁছানো যেত। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে জাহাজ চলাচল করায় দীর্ঘ সময় সাগরে থাকতে হচ্ছে, যা অনেক পর্যটককে নিরুৎসাহিত করছে।
দ্বীপের খাবার হোটেল মালিক মোহাম্মদ নুর বলেন, “আগে সারাদিন রান্না চলত, এখন দোকান খোলা রাখাই কষ্টকর।” শুঁটকি ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম জানান, আগের মৌসুমে যেখানে দিনে শতাধিক কেজি বিক্রি হতো, এবার দৈনিক খরচই ওঠে না।
সেন্টমার্টিন হোটেল রিসোর্ট ওনার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শিবলী আজম কোরেশির মতে, সীমিত সময়ের পর্যটন অনুমতির কারণে অনেক হোটেল বড় অঙ্কের লোকসানে পড়বে। একই অভিযোগ ডাব বিক্রেতা আলী হোসেন ও জেটিঘাট শ্রমিক নোমানের, যাদের আয় প্রায় বন্ধের পথে।
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয়দের জীবিকা বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত পর্যটন নীতি জরুরি। এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই বিকল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কাজ চলছে।