ডেড সি: যে জলে ডোবার চেয়ে ভেসে থাকাই সহজ
মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় প্রাকৃতিক আকর্ষণগুলোর একটি ডেড সি বা মৃত সাগর। নামের মধ্যে ‘সাগর’ থাকলেও এটি আসলে একটি স্থলবেষ্টিত অতিলবণাক্ত হ্রদ। অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে এই জলভাগে নামলে সাধারণ সমুদ্রের মতো সহজে ডুবে যাওয়া যায় না। বরং চিৎ হয়ে ভেসে থাকার অভিজ্ঞতাই এখানে পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
ডেড সি ইসরায়েল ও জর্ডনের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় অনেক নিচে। চারপাশের শুষ্ক পাহাড়, মরুভূমির আবহ এবং নীলচে পানির বৈপরীত্য এই স্থানকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।
কেন ডেড সিতে ভেসে থাকা যায়?
ডেড সির পানিতে দ্রবীভূত লবণের পরিমাণ সাধারণ সমুদ্রের পানির তুলনায় অনেক বেশি। ফলে পানির ঘনত্বও বেড়ে যায়। এই উচ্চ ঘনত্বের পানি মানুষের শরীরকে তুলনামূলক সহজে ভাসিয়ে রাখতে পারে।
তাই এখানে সাঁতার কাটার চেয়ে পানিতে চিৎ হয়ে ভেসে থাকার অভিজ্ঞতাই বেশি জনপ্রিয়। পর্যটকদের অনেকেই পানির ওপর ভেসে বই বা পত্রিকা পড়ার ছবি তোলেন। ডেড সির সঙ্গে এমন দৃশ্য এখন প্রায় প্রতীকী হয়ে উঠেছে।
নাম ‘ডেড সি’ কেন?
অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে অধিকাংশ জলজ প্রাণীর পক্ষে এই পানিতে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। এ কারণেই এর নাম ‘ডেড সি’ বা মৃত সাগর। তবে এটি পুরোপুরি প্রাণহীন নয়। কিছু বিশেষ ধরনের অণুজীব এমন পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে।
শুধু ভেসে থাকাই নয়
ডেড সির আরেকটি পরিচিত আকর্ষণ খনিজসমৃদ্ধ কাদা। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে এই কাদা শরীরে মাখার অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। এটি ত্বকের জন্য উপকারী বলে প্রচলিত ধারণা থাকলেও এ ধরনের সব দাবির পক্ষে সমান শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই কাদাকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা না করাই ভালো।
ডেড সির আশপাশের ভূদৃশ্যও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। শুষ্ক পাহাড়, মরুভূমি ও নীল পানির সমন্বয়ে তৈরি দৃশ্য বিশেষ করে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে।
ভ্রমণে সতর্কতা জরুরি
ডেড সিতে ভেসে থাকা সহজ হলেও পানিতে নামার সময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন। চোখ বা মুখে পানি গেলে প্রচণ্ড জ্বালা হতে পারে। তাই পানিতে ঝাঁপ দেওয়া বা ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ পানিতে ডোবানো উচিত নয়।
শরীরে কাটা বা ক্ষত থাকলে অতিলবণাক্ত পানিতে অস্বস্তি ও জ্বালা বাড়তে পারে। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকলেও ত্বকে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। তাই নির্ধারিত পর্যটন এলাকা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে অল্প সময় পানিতে থাকাই ভালো।
প্রকৃতির নিজস্ব বৈশিষ্ট্যই ডেড সির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মরুভূমির ভূদৃশ্যের পাশাপাশি পানিতে ভেসে থাকার এই বিরল অভিজ্ঞতা মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণে ডেড সিকে করে তুলেছে বিশেষ একটি গন্তব্য।