বিশ্বব্যাপী মুসলিম পর্যটকের সংখ্যা ও ভ্রমণ ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। এই প্রবণতা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য নতুন পর্যটন বাজার, বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যটনে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর বড় সুযোগ তৈরি করেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সমন্বিত পরিকল্পনা, কার্যকর বিপণন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দৃশ্যমানতা বাড়ানো ছাড়া এ সম্ভাবনার পুরোটা কাজে লাগানো সম্ভব হবে না।
সম্প্রতি ‘ট্রাভেল ডায়ালগস সাউথ এশিয়া’র এক আলোচনায় ক্রিসেন্টরেটিং ও হালাল ট্রিপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফজল বাহারদীন এবং পর্যটন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. উলফগ্যাং জর্জ আরল্ট দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলিম পর্যটন বাজারের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।
আলোচনায় জানানো হয়, ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক মুসলিম ভ্রমণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ কোটি। মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৭ কোটি ৪০ লাখে। ২০২৬ সালে এই সংখ্যা প্রায় ১৯ কোটি ৬০ লাখে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক মুসলিম পর্যটকের সংখ্যা ২৬ কোটি ২০ লাখে পৌঁছাতে পারে এবং তাদের মোট ভ্রমণ ব্যয় প্রায় ৩১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়াবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুসলিম পর্যটন এখন আর সীমিত বা বিশেষায়িত বাজার নয়। বর্তমানে এটি বিশ্বের মোট আন্তর্জাতিক পর্যটকের প্রায় ১১ থেকে ১২ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছে।
মুসলিম পর্যটকদের জন্য হালাল খাবারের সহজলভ্যতা, নামাজ আদায়ের সুবিধা এবং পরিবারবান্ধব পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে এসব সুবিধা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রয়োজন হয় না। হোটেলে কিবলার দিকনির্দেশনা, হালাল খাবারের তথ্য এবং প্রার্থনার স্থান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য সরবরাহ করলেই একটি গন্তব্য মুসলিম পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল গ্লোবাল মুসলিম ট্রাভেল ইনডেক্সে বিভিন্ন অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে অঞ্চলটির দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত কৌশল ও সুস্পষ্ট ব্র্যান্ডিংয়ের ঘাটতি রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
আলোচনায় মুসলিম পর্যটন উন্নয়নে কয়েকটি কাঠামোগত মডেলের কথাও তুলে ধরা হয়। এসিইএস মডেলে গন্তব্যের প্রবেশগম্যতা, যোগাযোগ, পরিবেশ ও সেবার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আরআইডিএ কাঠামো পর্যটকের অভিজ্ঞতা, নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সুবিধা উন্নয়নের বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়। অন্যদিকে ট্রাস্ট মডেল স্বচ্ছতা, ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং গ্রাহক মূল্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কৌশল অনুসরণ করতে পারলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো মুসলিম পর্যটকদের জন্য নিজেদের আরও প্রতিযোগিতামূলক ও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।
তথ্যবক্স
- ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক মুসলিম পর্যটক: প্রায় ১৯ কোটি ৬০ লাখ
- ২০৩০ সালের সম্ভাব্য পর্যটক সংখ্যা: ২৬ কোটি ২০ লাখ
- সম্ভাব্য ভ্রমণ ব্যয়: ৩১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- বৈশ্বিক পর্যটনে মুসলিম পর্যটকের অংশ: ১১-১২ শতাংশ