চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের পাহাড়ি প্রকৃতির অন্যতম আকর্ষণ নাপিত্তাছড়া ঝরনা। সবুজ পাহাড়, পাথুরে ঝিরিপথ আর একের পর এক জলধারার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই ট্রেইল প্রকৃতিপ্রেমী ও রোমাঞ্চপ্রিয় ভ্রমণকারীদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিনই ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসেন নাপিত্তাছড়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে।

মেঠোপথ পেরিয়ে পাহাড়ি পথে এগোতে এগোতে শুরু হয় নাপিত্তাছড়া ট্রেইলের ভ্রমণ। পথের দুই পাশে পাহাড়, বড় বড় পাথর, ছোট জলধারা ও বনাঞ্চল ভ্রমণকে করে তোলে বৈচিত্র্যময়। তবে ট্রেইলের কিছু অংশ পাথুরে ও দুর্গম হওয়ায় সতর্কতার সঙ্গে চলতে হয়।

নাপিত্তাছড়া এলাকায় রয়েছে চারটি ঝরনা: টিপরাখুম, কুপিটাকুম, মিঠাছড়ি ও বান্দরখুম। প্রতিটি ঝরনার রূপ ও পথের অভিজ্ঞতা আলাদা।

ট্রেইলের প্রথম দিকের ঝরনা টিপরাখুম। এরপর প্রায় ১০ থেকে ২০ মিনিট পথ এগোলে দেখা মেলে কুপিটাকুম ঝরনার। এখানে পানির প্রবাহ তুলনামূলক বেশি এবং ঝরনার সামনের অংশ কিছুটা গভীর। তাই পানিতে নামার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

মিঠাছড়ি ঝরনায় যেতে পথে একটি খাড়া পাহাড়ি ঢাল পার হতে হয়। ট্র্যাকিংয়ের অভিজ্ঞতা কম থাকলে এ অংশে বিশেষ সতর্ক থাকা জরুরি। বর্ষাকালে ঝরনাটির পানির প্রবাহ বাড়লে এর সৌন্দর্য আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

নাপিত্তাছড়া ভ্রমণে স্থানীয় গাইড নেওয়া ভালো। পাহাড়ি ও ঝিরিপথে পথ হারানোর ঝুঁকি এড়াতে এবং নিরাপদে ট্রেইল ঘুরে দেখতে গাইড সহায়ক হতে পারেন। বর্ষায় ঝরনায় পানির প্রবাহ বেশি থাকলেও অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের সময় ভ্রমণে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

কীভাবে যাবেন

দেশের যেকোনো স্থান থেকে বাসযোগে মিরসরাই উপজেলার নয়দুয়ারিয়া বাজারে নামতে হবে। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা অথবা পায়ে হেঁটে পাহাড়ের পাদদেশে গিয়ে শুরু করা যায় ঝরনার পথে যাত্রা। নয়দুয়ারিয়া বাজার থেকেই নাপিত্তাছড়া ট্রেইলে যাওয়ার পথ সম্পর্কে স্থানীয়দের সহায়তা নেওয়া যায়।

থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা

মিরসরাই উপজেলার বড়তাকিয়া বাজারে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া সীতাকুণ্ড সদর এবং চট্টগ্রাম নগরের এ কে খান ও অলংকার এলাকায় বিভিন্ন আবাসিক হোটেল পাওয়া যায়।

ঝরনার পথে একটি ছোট খাবারের দোকানে আগে থেকে খাবারের অর্ডার দিয়ে রাখা যায়। মিরসরাই পৌরসদর ও সীতাকুণ্ডেও খাবারের বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে।

ভ্রমণ পরামর্শ: পিচ্ছিল ও পাথুরে পথে চলার উপযোগী জুতা পরুন, পর্যাপ্ত পানি সঙ্গে রাখুন এবং প্লাস্টিক বা আবর্জনা প্রকৃতিতে ফেলবেন না। ঝরনার গভীর পানি ও প্রবল স্রোতে নামার আগে অবশ্যই পরিস্থিতি বিবেচনা করুন।