অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের ম্যাকাই অঞ্চলে এমন এক সৈকত আছে, যেখানে সূর্য ওঠার আগেই শুরু হয় প্রকৃতির এক ব্যতিক্রমী আয়োজন। ভোরের নরম আলোয় সমুদ্রসৈকতে নেমে আসে ক্যাঙারু ও ওয়ালাবি, আর দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা ক্যামেরায় বন্দি করেন সেই বিরল দৃশ্য। কেপ হিলসবোরো ন্যাশনাল পার্ক এখন প্রকৃতিপ্রেমী ভ্রমণকারীদের অন্যতম আকর্ষণ।
ম্যাকাই শহর থেকে কেপ হিলসবোরো ন্যাশনাল পার্কের দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। ভাড়ার গাড়িতে সেখানে যাওয়া যায়। সৈকতে বন্যপ্রাণী দেখার অন্যতম সেরা সময় সূর্যোদয়ের আগে। তাই চার সাংবাদিক ভোর ৫টায় রওনা হয়ে গন্তব্যে পৌঁছান সূর্যের প্রথম আলো ফোটার আগেই।
ততক্ষণে সৈকতে জড়ো হয়েছেন প্রায় দেড়শ দেশি-বিদেশি পর্যটক। কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্যাঙারু ও ওয়ালাবির উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে সৈকত। পর্যটকেরা দূর থেকে সেই দৃশ্য উপভোগ ও ছবি তুলছিলেন।
সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ের আড়াল থেকে ছড়িয়ে পড়ে লালচে আভা। নীল সমুদ্র, বালুকাবেলা ও সকালের আলো মিলিয়ে তৈরি হয় মনোরম এক প্রাকৃতিক দৃশ্য। সৈকতের বাঁকানো প্রান্তে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয়, কোরালসমৃদ্ধ উপকূল ও মহাসাগরের বিস্তৃত জলরাশি উপভোগের সুযোগও রয়েছে।
কেপ হিলসবোরো শুধু ক্যাঙারু দেখার জায়গা নয়। এখানে সমুদ্রসৈকত, উপকূলীয় বন, পাহাড়ি পথ ও দর্শনীয় স্থান মিলিয়ে রয়েছে প্রকৃতিনির্ভর ভ্রমণের নানা সুযোগ। ভোরের বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণের পর পর্যটকেরা পার্কের বিভিন্ন হাঁটার পথ ও উপকূলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঘুরে দেখতে পারেন।
কুইন্সল্যান্ডের উপকূলীয় শহর ম্যাকাইও ভ্রমণকারীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য। শহরটির নদীতীর, হার্বার ও সমুদ্রকেন্দ্রিক পরিবেশ অবসর ভ্রমণের আলাদা অভিজ্ঞতা দেয়। পোতাশ্রয়ে সারিবদ্ধ ইয়ট, সমুদ্রভ্রমণে যাওয়া নৌযান এবং দূরে নোঙর করা জাহাজ মিলিয়ে হার্বার এলাকায় তৈরি হয় অন্যরকম দৃশ্য।
প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী পর্যটনের ক্ষেত্রে কেপ হিলসবোরোর প্রধান আকর্ষণ হলো প্রাণীদের স্বাভাবিক পরিবেশে পর্যবেক্ষণ। তবে পর্যটকদের বন্যপ্রাণী থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং তাদের খাবার না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।