সুইজারল্যান্ড মানেই আল্পসের তুষারঢাকা শৃঙ্গ কিংবা লুসার্ন ও জেনেভার ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্র নয়। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ফ্রান্স সীমান্তঘেঁষা জুরা ও থ্রি লেকস অঞ্চল রয়েছে, যেখানে শান্ত হ্রদ, নৌভ্রমণ, আঙুরখেত ও ছোট ছোট জনপদ মিলিয়ে পাওয়া যায় ভিন্ন ধরনের সুইস ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।

এই অঞ্চলের সৌন্দর্য দেখার অন্যতম আকর্ষণীয় উপায় হলো জলপথে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যাত্রা। লেক বিয়েলের নীল জলরাশির ওপর দিয়ে ফেরি এগোতে থাকলে দুই পাশে দেখা যায় ঢেউখেলানো পাহাড়, সবুজ কৃষিজমি, আঙুরখেত ও হ্রদের ধারের ছোট জনপদ।

ভ্রমণপথের অন্যতম আকর্ষণ সেন্ট পিটার্স আইল্যান্ড, যা বর্তমানে মূলত একটি উপদ্বীপ হিসেবে পরিচিত। নৌকায় কিংবা স্থলপথে এখানে পৌঁছানো যায়। প্রকৃতির শান্ত পরিবেশের পাশাপাশি জায়গাটি ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গেও যুক্ত। সুইস পর্যটন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এটি প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকা এবং এখানে প্রকৃতি ও সংস্কৃতিভিত্তিক ভ্রমণপথও রয়েছে।

জুরা ও থ্রি লেকস অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই সুইজারল্যান্ডের তুলনামূলক কম পরিচিত পর্যটন গন্তব্যগুলোর একটি। জনপ্রিয় পাহাড়ি শহরগুলোর তুলনায় এখানে ভিড় কম, ফলে ধীরগতির ও নিরিবিলি ভ্রমণ পছন্দ করা পর্যটকদের জন্য অঞ্চলটি বিশেষ আকর্ষণীয় হতে পারে।

এই হ্রদাঞ্চলের বড় সুবিধা হলো জলপথভিত্তিক ভ্রমণের সুযোগ। লেক বিয়েল, নিউশাতেল ও মুর্তেনকে ঘিরে বিভিন্ন নৌভ্রমণ রয়েছে। এসব যাত্রাপথে আঙুরখেত, ওয়াইন উৎপাদনকারী গ্রাম, প্রাকৃতিক তীরভূমি ও ঐতিহাসিক জনপদের দৃশ্য দেখা যায়।

প্রকৃতির পাশাপাশি স্থানীয় খাবার ও আঞ্চলিক ওয়াইনও এ অঞ্চলের ভ্রমণ অভিজ্ঞতার অংশ। হ্রদের আশপাশের গ্রাম ও ছোট শহরে স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রথমবার সুইজারল্যান্ড ভ্রমণে আল্পস বা বড় শহরগুলো স্বাভাবিক পছন্দ হতে পারে। তবে দ্বিতীয়বারের ভ্রমণে বা পরিচিত পথের বাইরে শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে জুরা ও থ্রি লেকস অঞ্চল হতে পারে ভিন্নধর্মী একটি গন্তব্য।

এখানে মূল আকর্ষণ কোনো একক দর্শনীয় স্থান নয়। বরং নৌকায় চড়া, হ্রদের ওপর দিয়ে ধীরে এগিয়ে চলা, ছোট জনপদে থামা এবং স্থানীয় সংস্কৃতি ও খাবারের সঙ্গে পরিচিত হওয়াই এই অঞ্চলের ভ্রমণের বিশেষত্ব।