কলকাতার গঙ্গাতীরের দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বাংলার উনিশ শতকের ইতিহাস, স্থাপত্য ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। রানি রাসমণির প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের সাধনাজীবনের দীর্ঘ অধ্যায়। ফলে কলকাতা ভ্রমণে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখতে আগ্রহী পর্যটকদের কাছে দক্ষিণেশ্বর একটি উল্লেখযোগ্য গন্তব্য।

রানি রাসমণির প্রতিষ্ঠিত মন্দির

হুগলি নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন রানি রাসমণি। মন্দিরের জন্য তিনি ১৮৪৭ সালে জমি কেনেন। প্রায় নয় বছর ধরে নির্মাণকাজের পর ১৮৫৫ সালের ৩১ মে মন্দিরে দেবদেবীর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

প্রধান মন্দিরটি বাংলার নবরত্ন স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত। মন্দির চত্বরে প্রধান কালী মন্দিরের পাশাপাশি রয়েছে ১২টি শিবমন্দির, রাধাকান্ত মন্দির, নাটমন্দিরসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পুরো মন্দির চত্বর প্রায় ২০ একর এলাকায় বিস্তৃত।

শ্রীরামকৃষ্ণের স্মৃতিবিজড়িত দক্ষিণেশ্বর

দক্ষিণেশ্বরের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস। ১৮৫৫ সালে তিনি এখানে আসেন এবং দীর্ঘ সময় মন্দিরে সাধনা ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। মন্দির চত্বরে তাঁর ব্যবহৃত কক্ষ, পঞ্চবটি ও অন্যান্য স্মৃতিবিজড়িত স্থান এখনো দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।

পঞ্চবটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মন্দির কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই এলাকায় শ্রীরামকৃষ্ণ সাধনা ও ধ্যান করতেন। দক্ষিণেশ্বরের সঙ্গে মা সারদা দেবী ও স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিও জড়িয়ে রয়েছে।

গঙ্গার তীর ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতা

মন্দির দর্শনের পাশাপাশি হুগলি নদীর তীর দক্ষিণেশ্বর ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ। নদীর পাড়, ঘাট ও মন্দিরের স্থাপত্য মিলিয়ে এখানে কলকাতার নগরজীবনের বাইরে ভিন্ন ধরনের পরিবেশ পাওয়া যায়।

দক্ষিণেশ্বর রেল ও মেট্রোর মাধ্যমে কলকাতার বিভিন্ন অংশের সঙ্গে যুক্ত। মন্দিরের সরকারি ওয়েবসাইট অনুযায়ী, দক্ষিণেশ্বর মেট্রো ও রেলস্টেশন থেকে স্কাইওয়াকের মাধ্যমে মন্দিরে যাওয়া যায়। ফেরির মাধ্যমেও বেলুড় মঠের সঙ্গে নদীপথে যোগাযোগ রয়েছে।

মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, দর্শনের সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট এবং বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট। সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সরকারি ওয়েবসাইটে সর্বশেষ তথ্য দেখে নেওয়া ভালো।

মন্দিরে প্রবেশের সময় শালীন পোশাক পরা, জুতা ও নির্দিষ্ট সামগ্রী নির্ধারিত স্থানে রাখা এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা উচিত। গর্ভগৃহের ভেতরে ছবি তোলা নিষিদ্ধ।