হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে রঘুনন্দন পাহাড়ের সবুজ বনভূমির মধ্যে গড়ে উঠেছে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। প্রায় ২৪৩ হেক্টর আয়তনের এই জাতীয় উদ্যানের প্রধান আকর্ষণ ঘন প্রাকৃতিক বন, ছোট ছোট ছড়া, আঁকাবাঁকা হাঁটার পথ এবং বৈচিত্র্যময় পাখি ও বন্যপ্রাণী। শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে চাইলে সাতছড়ি হতে পারে একদিনের ভ্রমণের উপযোগী একটি গন্তব্য।

বনের ভেতর হাঁটার অভিজ্ঞতা

সাতছড়ির অন্যতম আকর্ষণ এর প্রকৃতিপথ। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এখানে দর্শনার্থীদের জন্য একাধিক প্রকৃতিপথ রয়েছে। এসব পথে হাঁটলে ঘন গাছপালার ছায়া, পাতার ফাঁক দিয়ে আসা আলো এবং বনের স্বাভাবিক পরিবেশ কাছ থেকে অনুভব করা যায়।

সাতছড়ি নামের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এখানকার ছোট ছোট ছড়া বা জলধারা। বর্ষায় এসব জলধারায় পানির প্রবাহ বাড়ে। বৃষ্টির পর ভেজা বন, সজীব সবুজ আর মেঘলা আকাশ সাতছড়ির পরিবেশে আলাদা মাত্রা যোগ করে। তবে এ সময় বনের পথে হাঁটার ক্ষেত্রে পিচ্ছিল পথ ও আবহাওয়ার বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।

পাখি ও বন্যপ্রাণীর আবাস

সাতছড়ি জীববৈচিত্র্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এলাকাটি বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। প্রকৃতিপথে হাঁটার সময় ভাগ্য ভালো হলে গাছের ডালে পাখি কিংবা বনের অন্য প্রাণীর দেখা মিলতে পারে।

বন্যপ্রাণী দেখার সময় শব্দ না করা এবং নির্ধারিত পথ অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণীদের কাছে যাওয়া, খাবার দেওয়া বা বিরক্ত করা উচিত নয়।

কীভাবে যাবেন

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ঢাকার প্রায় ১৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং শ্রীমঙ্গল থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। ঢাকা থেকে সড়কপথে যেতে সাধারণত প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা এবং শ্রীমঙ্গল থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লাগে।

ভ্রমণের আগে প্রবেশের সময়, টিকিট, স্থানীয় নিয়ম ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়া ভালো।

প্রকৃতিকে ভালোবেসেই ভ্রমণ

সাতছড়ি শুধু বেড়ানোর জায়গা নয়, এটি একটি সংরক্ষিত প্রাকৃতিক বনাঞ্চল। তাই ভ্রমণের সময় প্লাস্টিক বা খাবারের প্যাকেট ফেলে না রাখা, গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত না করা, উচ্চ শব্দ না করা এবং নির্ধারিত পথে চলা জরুরি। প্রকৃতিকে তার স্বাভাবিক অবস্থায় রেখে আসাই হতে পারে সাতছড়ি ভ্রমণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম।