ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবন থেকে খুব বেশি দূরে নয়, অথচ একেবারে ভিন্ন এক শান্ত-সবুজ পরিবেশ—এমনই একটি গন্তব্য জিন্দা পার্ক। পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে একদিনের অবকাশ কাটাতে রাজধানীর আশপাশে যারা নিরিবিলি ও প্রকৃতিনির্ভর কোনো জায়গা খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি হয়ে উঠতে পারে আদর্শ পছন্দ।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত এই পার্কে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে বিস্তৃত সবুজ মাঠ, নান্দনিক স্থাপনা আর গাছপালায় ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশ। প্রবেশমূল্য ১৫০ টাকা, পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের জন্য ৫০ টাকা। প্রধান ফটক পেরিয়ে দুপাশে ছোট পুকুর আর সামনে খোলা মাঠ দর্শনার্থীদের স্বাগত জানায়।

পার্কের অন্যতম আকর্ষণ এর স্থাপত্যশৈলী। ছাই রঙের সিমেন্ট ব্লক, কাচ, কাঠ ও বাঁশের সমন্বয়ে নির্মিত ভবনগুলোতে আলো-বাতাস প্রবাহের জন্য রাখা হয়েছে ফাঁকা স্থান। এখানে রয়েছে দুটি স্কুল ভবন, যেখানে প্লে গ্রুপ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান হয়, যদিও কলেজ শাখা পুরোপুরি চালু হয়নি। পাশাপাশি নির্মাণাধীন একটি অডিটোরিয়াম ভবিষ্যতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

জিন্দা পার্কের ভেতরে ছড়িয়ে আছে ঘন সবুজ অরণ্য, যেখানে পাখির ডাক ও ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ পরিবেশকে আরও জীবন্ত করে তোলে। বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, ঝাউ ও দেবদারুর সারি, ট্রি-হাউস ও গাছের ওপর বসার ব্যবস্থা দর্শনার্থীদের আলাদা অভিজ্ঞতা দেয়। তবে বৃষ্টির দিনে এসব জায়গায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

পুরো পার্কজুড়ে রয়েছে পাঁচটি লেক। কোথাও শাপলা-পাতা, কোথাও হাঁসের দল। লেকে নৌকা ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে, আধা ঘণ্টার জন্য ভাড়া ২০০ টাকা। লেকের মাঝখানে তৈরি কৃত্রিম দ্বীপে যেতে বাঁশের সাঁকো ও ভাসমান কাঠের সেতু ব্যবহার করতে হয়, যা কিছুটা দুলতে পারে, তাই সাবধানে চলা জরুরি।

পার্কের শেষপ্রান্তে ‘অন্বেষা—পথ ও পাথেয়’ নামে একটি দৃষ্টিনন্দন লাইব্রেরি রয়েছে। গোলাকার চারতলা এই ভবনে প্রবেশমূল্য ২০ টাকা। নিরিবিলি পরিবেশে বই পড়া বা সময় কাটানোর জন্য এটি বিশেষ আকর্ষণীয়।

গ্রামীণ আবহ ফুটিয়ে তুলতে পার্কের একাংশে রয়েছে মাটির ঘর, যেখানে দেখা যায় ভেড়া, হাঁস ও গবাদিপশু পালন। এছাড়া পিকনিকের জন্য নির্ধারিত স্থান, মাটির চুলা ও বড় দলের আয়োজনের সুবিধাও রয়েছে।

খাবারের জন্য ‘পান্থ নিবাস’ রেস্তোরাঁয় বিভিন্ন প্যাকেজে দুপুরের খাবার, সকালের নাশতা ও বিকেলের হালকা খাবার পাওয়া যায়। রয়েছে ডরমিটরি সুবিধাও, যেখানে দিনের জন্য ভাড়া ৩ হাজার টাকা, তবে রাতযাপনের ব্যবস্থা নেই।

ঢাকা থেকে কুড়িল বা কাঁচপুর হয়ে সহজেই পৌঁছানো যায় জিন্দা পার্কে। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খোলা থাকে, ঈদের দুই দিন ছাড়া সারা বছরই দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।