পবিত্র রমজান মাস শেষে ঘনিয়ে আসছে ঈদুল ফিতর। ঈদের দীর্ঘ ছুটি সামনে রেখে দেশের প্রধান সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে পর্যটকদের অগ্রিম বুকিংয়ের হিড়িক। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের আশা, এবারের ঈদে পাঁচ থেকে ১০ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটতে পারে, ফলে জমে উঠবে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প।
শহর ও আশপাশের আবাসিক হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস ও রিসোর্টগুলোতে ঈদের দিন থেকে শুরু করে টানা কয়েকদিনের জন্য রুম বুকিং দ্রুত বাড়ছে। তারকা মানের অনেক হোটেলেই ঈদের পরবর্তী সপ্তাহজুড়ে প্রায় সব রুম আগেই বুক হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, ঈদের প্রথম তিন দিনের জন্য কক্সবাজারের পাঁচ শতাধিক আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের অধিকাংশ রুম ইতোমধ্যে অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। মাঝারি মানের কিছু হোটেলে সীমিতসংখ্যক রুম খালি থাকলেও পর্যটকের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
ঈদকে সামনে রেখে পর্যটকদের ভালো সেবা দিতে বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টে চলছে সংস্কার, রং করা ও আলোকসজ্জার কাজ। কোথাও নতুন সাজে সাজানো হচ্ছে কক্ষ, কোথাও বাড়ানো হচ্ছে পরিষেবা সুবিধা। পর্যটকরা যেন আরামদায়ক পরিবেশ পান, সে লক্ষ্যেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
কক্সবাজারের মাঝারি মানের আবাসিক হোটেল হিলভিউয়ের ম্যানেজিং পার্টনার রহমত উল্লাহ জানান, তাদের হোটেলে আগামী ২২, ২৩ ও ২৪ মার্চের জন্য ইতোমধ্যে অগ্রিম বুকিং রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে হোটেলের সাজসজ্জা ও প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ চলছে।
তারকা মানের হোটেল কক্স টুডে-এর সহকারী মহাব্যবস্থাপক আবু তালেব বলেন, তাদের হোটেলে দুই শতাধিক কক্ষ রয়েছে। রমজান মাসেই হোটেলের সংস্কার কাজ চলছে এবং ঈদের আগেই তা শেষ হবে। ঈদের প্রথম তিন দিনের জন্য প্রায় অর্ধেক কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে, তবে অনেক পর্যটক এখনো বুকিং নিশ্চিত করেননি।
সায়মান রিসোর্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিনান্সিয়াল কন্ট্রোলার আসাদুজ্জামান নূর জানান, ঈদের পরবর্তী পাঁচ থেকে ছয় দিনের জন্য তাদের রিসোর্টে প্রায় সব কক্ষই অগ্রিম বুকিং রয়েছে। তিনি আশা করেন, ঈদের ছুটিতে বিপুলসংখ্যক পর্যটক কক্সবাজারে আসবেন।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, কক্সবাজারের আবাসিক খাতে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ ২০ হাজার মানুষের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। টানা ১০ দিনের ছুটিতে প্রতিদিন লাখেরও বেশি পর্যটক এখানে আসতে পারেন বলে তিনি মনে করেন।
কক্সবাজার হোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, দীর্ঘ ছুটির কারণে এবারের ঈদে পর্যটকের চাপ অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পুরো ছুটির সময়ে মিলিয়ে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ কক্সবাজারে ভ্রমণে আসতে পারেন।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান জানান, হোটেল মালিক ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় যেন না হয় সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটন এলাকা ও সমুদ্রসৈকতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও হয়রানি রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।