শ্রীলঙ্কা ভ্রমণে স্বল্প সময়েও মিলতে পারে সমুদ্র, পাহাড়, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অনন্য মিশেল। দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপদেশটি আয়তনে ছোট হলেও অভিজ্ঞতায় বিশাল। মাত্র কয়েক ঘণ্টার যাত্রায় এক উপকূল থেকে অন্য উপকূলে পৌঁছানো যায়, আবার চাইলে ধীরে সুস্থে ঘুরে দেখা যায় শতাব্দীপ্রাচীন নিদর্শন, চা-বাগান, বন্যপ্রাণী আর সমুদ্রতট।

কলম্বো
দেশটির রাজধানী কলম্বো আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের সংমিশ্রণ। ঔপনিবেশিক স্থাপত্যে ভরা ফোর্ট এলাকা শহরের কেন্দ্রবিন্দু। ডাচ হাসপাতালের মতো ঐতিহাসিক স্থাপনা এখন রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেতে রূপ নিয়েছে। গলে ফেস গ্রিনে বিকেলের আড্ডা, স্থানীয় খাবার যেমন ইসো বড়া আর সাম্বল চেখে দেখা পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় অভিজ্ঞতা। শহরটি হাঁটার জন্য নিরাপদ, তবে সহজ যাতায়াতের জন্য টুকটুক সুবিধাজনক।

সিগিরিয়া
শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে আইকনিক ঐতিহাসিক স্থান সিগিরিয়া রক ফোর্ট্রেস। প্রাচীন রাজা কাশ্যপের এই দুর্গে রয়েছে পুকুর, রাজকক্ষ এবং বিখ্যাত সিংহপায়ের ভাস্কর্য। পাহাড়ের গায়ে আঁকা নারীদের ফ্রেস্কোচিত্র বিশেষ আকর্ষণ। প্রায় ১২০০ ধাপ পেরিয়ে শীর্ষে উঠলে চারপাশের অপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়। ভোরে ভ্রমণ করলে গরম এড়ানো যায়।

অনুরাধাপুরা
প্রাচীন বৌদ্ধ সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্র অনুরাধাপুরা। শহরের বাইরে বিস্তৃত এলাকায় রয়েছে স্তূপ, মন্দির ও প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ। এখানে অবস্থিত শ্রী মহা বোধি বৃক্ষ, যা বুদ্ধের বোধিলাভের গাছের শাখা থেকে জন্মেছে বলে বিশ্বাস করা হয়। ধর্মীয় গুরুত্বের কারণে দর্শনার্থীদের শালীন পোশাক পরা জরুরি।

পোলোনারুয়া
প্রাচীন নিদর্শন ও ভাস্কর্যের জন্য বিখ্যাত পোলোনারুয়া। গাল বিহারায় বিশাল শায়িত বুদ্ধমূর্তি এই স্থানের প্রধান আকর্ষণ। গ্রানাইট পাথরে খোদাই করা এসব ভাস্কর্যে সূক্ষ্ম কারুকাজ চোখে পড়ে। রাজকীয় ধ্বংসাবশেষ এলাকা ঘুরে দেখতে পুরো একটি দিন লাগতে পারে।

জাফনা
উত্তরাঞ্চলের জাফনা শ্রীলঙ্কার তামিল সংস্কৃতির কেন্দ্র। জাফনা ফোর্ট ও নাল্লুর কান্দাস্বামী মন্দির এখানে দর্শনীয় স্থান। দীর্ঘ সংঘাতের পর অঞ্চলটি এখন পুনরুজ্জীবিত। স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোতে মসলাদার তামিল খাবারের স্বাদ পাওয়া যায়। আশপাশের দ্বীপ যেমন ডেলফট ও কেইটস ভ্রমণেও ভিন্ন অভিজ্ঞতা মেলে।