ঈদের দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে শেরপুরের পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ছুটে এসেছেন হাজারো মানুষ। ফলে ছুটির পুরো সময়জুড়েই প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে জেলার জনপ্রিয় পর্যটন স্পটগুলো।
ঈদের দিন থেকে শুরু করে ছুটির শেষ পর্যন্ত জেলার গজনী অবকাশ, মধুটিলা ইকোপার্ক ও পিকনিক স্পট, গোল্ডেন ভ্যালি পার্ক, বিএম রোড বা সেলফি রোড এলাকা এবং পৌর পার্কসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে ছিল দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি। শিশু থেকে প্রবীণ, সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে এসব এলাকা।
জেলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনী অবকাশে সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থীর সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও দেশের নানা প্রান্ত থেকে আগত পর্যটকরা পরিবার নিয়ে সেখানে সময় কাটিয়েছেন।
গজনী অবকাশের ঝুলন্ত সেতু, লেক, প্যাডেল বোট এবং ওয়াটার পার্ক দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করেছে। লেকের স্বচ্ছ পানিতে নৌবিহার, শিশুদের জন্য বিনোদনের নানা ব্যবস্থা এবং সবুজে ঘেরা পাহাড়ি পরিবেশ ভ্রমণকারীদের কাছে বাড়তি আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি সুউচ্চ পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে চারপাশের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে দেখা গেছে অনেককে।
বিশেষ করে গারো পাহাড়সংলগ্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নিরিবিলি পরিবেশ এবং সবুজ বনাঞ্চল গজনী অবকাশকে ঈদকালীন ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে। প্রকৃতিপ্রেমীদের পাশাপাশি পরিবারভিত্তিক পর্যটকদের কাছেও স্থানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
অন্যদিকে নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্ক ও পিকনিক স্পটেও ছিল পর্যটকদের ব্যাপক ভিড়। মধুটিলার পাহাড়িকা পার্ক, সবুজ বনাঞ্চল এবং সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ারে উঠে আশপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন দর্শনার্থীরা। ছুটির দিনে সেখানে অনেক পরিবারকে পিকনিক ও অবকাশযাপনে সময় কাটাতে দেখা গেছে।
এ ছাড়া সদর উপজেলার গোল্ডেন ভ্যালি পার্ক, পৌর পার্ক এবং জনপ্রিয় বিএম রোড বা সেলফি রোড এলাকাও ছিল দর্শনার্থীদের পদচারণায় সরব। খোলা পরিবেশে ঘুরে বেড়ানো, ছবি তোলা এবং বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে ব্যস্ত ছিলেন তরুণ-তরুণীরা।
দর্শনার্থীরা জানান, ঈদের ব্যস্ততা ও কর্মব্যস্ত জীবনের চাপের বাইরে পরিবার নিয়ে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে এই ভ্রমণের মাধ্যমে। প্রাকৃতিক পরিবেশে অবসর কাটাতে পেরে তারা আনন্দিত। একই সঙ্গে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে আরও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও পর্যটকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।
স্থানীয়দের মতে, প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদ ও উৎসবের ছুটিকে ঘিরে শেরপুরের পর্যটন খাত নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। পর্যটকদের আগমনে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পর্যটন অবকাঠামোর আরও উন্নয়ন হলে শেরপুর দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে আরও বেশি পরিচিতি পাবে।