বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সভ্যতার দেশ চীন। হাজার বছরের ইতিহাস, বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি, আধুনিক নগরজীবন এবং সমৃদ্ধ শিল্পসংস্কৃতির এক অনন্য সমন্বয় এখানে দেখা যায়। প্রাসাদনগরী থেকে পাহাড়ি ট্রেইল, মরুভূমির গুহামালা থেকে নদীঘেরা গ্রাম, প্রতিটি গন্তব্যই আলাদা অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি দেয়। যারা ইতিহাস, প্রকৃতি, খাবার ও সংস্কৃতিকে একসঙ্গে উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য চীন হতে পারে এক পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণগন্তব্য।

বেইজিং

চীনের রাজধানী বেইজিং ইতিহাস ও আধুনিকতার মেলবন্ধনের শহর। ফরবিডেন সিটির সুবিশাল প্রাসাদসমূহ সাম্রাজ্যিক ঐতিহ্যের স্মারক। তিয়েনআনমেন স্কয়ার রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। পুরোনো হুটং গলিতে হাঁটলে স্থানীয় জীবনযাত্রা ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় ঘটে।

মোগাও গুহামালা, দুনহুয়াং

মরুভূমির কিনারায় অবস্থিত এই গুহামালা বৌদ্ধ শিল্পকলার এক অসাধারণ নিদর্শন। দেয়ালচিত্র, ভাস্কর্য ও ধর্মীয় কাহিনির চিত্রায়ণ মিলিয়ে এটি যেন এক জীবন্ত জাদুঘর। প্রাচীন সিল্ক রোডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল এই অঞ্চল।

টাইগার লিপিং গর্জ, ইউনান

অভিযাত্রীদের কাছে এটি অন্যতম আকর্ষণীয় ট্রেকিং গন্তব্য। গভীর খাদ আর বরফঢাকা পাহাড়ের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত জিনশা নদী মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরি করেছে। দীর্ঘ ট্রেকিং রুটে প্রতিটি বাঁকেই নতুন প্রকৃতি অপেক্ষা করে।

লেশান, সিচুয়ান

এখানে পাহাড় কেটে নির্মিত হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম পাথরের বুদ্ধমূর্তি। ৭১ মিটার উঁচু এই ভাস্কর্য নদীর মিলনস্থলে দাঁড়িয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে। ওপর থেকে ও নিচ থেকে দেখলে ভিন্ন অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।

সাংহাই

চীনের সবচেয়ে আধুনিক শহরগুলোর একটি সাংহাই। বুন্দ এলাকার ঐতিহাসিক স্থাপত্যের পাশে দাঁড়িয়ে আছে পুডংয়ের ঝলমলে আকাশচুম্বী ভবন। ফরাসি কনসেশন এলাকার গাছঘেরা রাস্তা, ক্যাফে ও শিল্পগ্যালারি শহরটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

গ্রেট ওয়াল

বিশ্বের অন্যতম বিস্ময় গ্রেট ওয়াল চীনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। পাহাড়ের চূড়া ধরে আঁকাবাঁকা এই প্রাচীর মানবসৃষ্ট স্থাপত্যের এক অনন্য উদাহরণ। বিভিন্ন অংশে এর গঠন ও দৃশ্য ভিন্ন রকম।

চেংদু

পান্ডার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত চেংদু শহর। পান্ডা গবেষণাকেন্দ্রে গিয়ে কাছ থেকে এই প্রাণী দেখা যায়। পাশাপাশি সিচুয়ান খাবারের ঝাল স্বাদ ও ঐতিহ্যবাহী চায়ের সংস্কৃতি শহরটিকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

ইয়াংশুওর কার্স্ট পাহাড়

লি নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা চুনাপাথরের কার্স্ট শৃঙ্গগুলো যেন জলরঙে আঁকা দৃশ্য। কুয়াশা, আলো আর পাহাড়ের মিলনে এখানে তৈরি হয় স্বপ্নময় পরিবেশ। নৌভ্রমণ ও গ্রামজীবনের অভিজ্ঞতা পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।

গুয়াংজু

চীনের খাদ্যসংস্কৃতির অন্যতম কেন্দ্র গুয়াংজু। ক্যান্টনিজ রান্নার জন্য বিখ্যাত এই শহরে ডিম সাম থেকে শুরু করে সামুদ্রিক খাবার পর্যন্ত স্বাদের বৈচিত্র্য পাওয়া যায়।

লংজি ধানখেত

পাহাড়ের ঢালে ধাপে ধাপে সাজানো লংজি ধানখেত প্রকৃতির বুকে মানুষের শিল্পকর্মের মতো। ঋতুভেদে সবুজ, সোনালি কিংবা পানিভরা প্রতিফলনে বদলে যায় এর সৌন্দর্য।