ইউরোপের পশ্চিম প্রান্তে আটলান্টিকের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা পর্তুগাল আজ বিশ্ব পর্যটকদের কাছে এক অনন্য গন্তব্য। একদিকে ঢেউ ভাঙা সমুদ্র সৈকত, অন্যদিকে পাহাড়ঘেরা গ্রাম, আবার কোথাও শত শত বছরের পুরোনো শহর ও ঐতিহ্যবাহী ওয়াইন অঞ্চল। স্বল্প সময়ের মধ্যেই পর্তুগালের নানা রূপ দেখা সম্ভব বলেই দেশটি ব্যাকপ্যাকার থেকে শুরু করে বিলাসী পর্যটকদের কাছেও সমান জনপ্রিয়।
এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে পাঁচটি ভ্রমণ রুট, যেগুলো পাঁচ দিন থেকে দশ দিনের মধ্যে পর্তুগালের সেরা অভিজ্ঞতা দিতে পারে। কেউ চাইলে একটি রুট ধরেই ভ্রমণ করতে পারেন, আবার সময় বেশি থাকলে দুই বা তিনটি রুট মিলিয়ে দীর্ঘ সফরও সাজানো সম্ভব।
প্রথম রুটটি সবচেয়ে জনপ্রিয় দশ দিনের পরিকল্পনা। শুরু হয় রাজধানী লিসবন থেকে। তিন দিনে লিসবনের ঐতিহাসিক পাড়া, আলফামার সরু গলি, নদীর ধারের দৃশ্য আর বিখ্যাত পাস্তেল দে নাতা উপভোগ করা যায়। এরপর এক ঘণ্টার ট্রেনে পৌঁছে যাওয়া যায় সিনত্রায়, যেখানে পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা রঙিন প্রাসাদ আর রাজকীয় বাগান যেন রূপকথার গল্প।
সিনত্রা থেকে দক্ষিণে এগোলে গন্তব্য আলগারভ উপকূল, বিশেষ করে লাগোস অঞ্চল। এখানকার পাথুরে খাঁজ, সমুদ্রগুহা আর স্বচ্ছ পানিতে কায়াকিং বা নৌভ্রমণ পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। এরপর একদিন কাটানো যায় ঐতিহাসিক এভোরায়, যেখানে রোমান মন্দির থেকে শুরু করে মধ্যযুগীয় স্থাপত্য চোখে পড়ে। সফরের শেষ দিকে কোইমব্রা হয়ে পৌঁছাতে হয় পোর্তোতে, যা বিখ্যাত তার রঙিন নদীপাড়, টাইলসের ভবন আর পোর্ট ওয়াইনের জন্য।
দ্বিতীয় রুটটি রোড ট্রিপপ্রেমীদের জন্য। উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত বিস্তৃত এন২ মহাসড়ক ধরে চললে চাভেস থেকে শুরু করে ফারো পর্যন্ত যাত্রায় দেখা মেলে পাহাড়ি গ্রাম, নদীর সৈকত, আঙুরের বাগান আর আলেন্তেজোর বিস্তীর্ণ প্রান্তর। এই পথে প্রকৃত পর্তুগালকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ বেশি।
তৃতীয় রুটটি দক্ষিণ পশ্চিম উপকূল ধরে পাঁচ দিনের ভ্রমণ। এরিসেইরা থেকে নাজারে, সেখান থেকে মিলফন্তেস হয়ে সাগ্রেস পর্যন্ত যাত্রায় সার্ফিং স্পট, ডলফিন দেখা আর সূর্যাস্ত উপভোগ করা যায়। শেষ দিন কাটে রিয়া ফর্মোসার প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকায়, যেখানে লেগুন আর বালুচর যেন আলাদা এক পৃথিবী।
চতুর্থ রুটে পোর্তো থেকে উত্তর পর্তুগাল ঘোরা হয়। ডুরো ভ্যালির আঙুর বাগান, ব্রাগান্সার দুর্গ, গুইমারায়েসের মধ্যযুগীয় শহর আর ব্রাগার গির্জাগুলো এই অঞ্চলের প্রধান আকর্ষণ। ইতিহাস আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করতে চান যারা, তাদের জন্য এটি আদর্শ।
পঞ্চম রুটে লিসবন থেকে দেশের মধ্যাঞ্চল ঘোরা হয়। ওবিদোসের দেয়ালঘেরা গ্রাম, কাস্তেলো ব্রাঙ্কোর বাগান, সেরা দা এসত্রেলার পাহাড় আর অ্যাভেইরোর খাল ভ্রমণ এই পরিকল্পনার মূল অংশ।