২০২৬ সালে একা ভ্রমণে নারীদের আগ্রহ বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে। নতুন এক গবেষণা বলছে, বর্তমানে একা ভ্রমণকারীদের মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশই নারী। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬৫ শতাংশ নারী জীবনের কোনো না কোনো সময়ে সঙ্গী ছাড়া এককভাবে ছুটি কাটিয়েছেন। গবেষকরা বলছেন, স্বাধীনভাবে ভ্রমণ, নতুন সংস্কৃতি আবিষ্কার এবং ব্যক্তিগত বিকাশের আগ্রহ থেকেই এই প্রবণতা জোরালো হচ্ছে।

সম্প্রতি একটি বৈশ্বিক সূচকে ২০২৬ সালে একা ভ্রমণকারী নারীদের জন্য সেরা শহরগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সূচকটি ৫০টি আন্তর্জাতিক শহর বিশ্লেষণ করে শীর্ষ ২০টি শহর নির্বাচন করেছে। এ ক্ষেত্রে অপরাধের ধারণা ও নিরাপত্তা স্কোর, ইন্টারনেটের গতি, একক ভ্রমণ সংক্রান্ত সার্চ প্রবণতা এবং গণপরিবহনের দক্ষতাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর, যার মোট স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৯৩। শহরটি নিরাপত্তা, উন্নত অবকাঠামো এবং সংযোগ ব্যবস্থার জন্য উচ্চ নম্বর পেয়েছে। কম অপরাধপ্রবণতা, কার্যকর গণপরিবহন এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেটের কারণে এটি একা ভ্রমণকারী নারীদের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয়।

দ্বিতীয় অবস্থানে আছে নিউ ইয়র্ক সিটি, যার স্কোর ৯০ দশমিক ২। একক ভ্রমণের জন্য এই শহর নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। পাশাপাশি শক্তিশালী পরিবহন ব্যবস্থা ও তুলনামূলক ভালো নিরাপত্তা সূচক নিউইয়র্ককে তালিকার ওপরের দিকে রেখেছে।

তৃতীয় স্থানে রয়েছে দুবাই। বিশেষ করে নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সংযোগের ক্ষেত্রে শহরটি উচ্চ স্কোর অর্জন করেছে। এরপরের অবস্থানগুলোতে আছে Tokyo এবং Seoul, যেগুলো আধুনিক অবকাঠামো ও দক্ষ গণপরিবহনের জন্য পরিচিত।

এ ছাড়া তালিকার অন্য উল্লেখযোগ্য শহরের মধ্যে রয়েছে প্যারিস, আমস্টারডাম, লন্ডন, ব্যাংকক ও সিডনি। গবেষণাটি ইঙ্গিত করছে, একা ভ্রমণকারী নারীরা এখন এমন গন্তব্যকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, যেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত, অপরাধের হার কম এবং গণপরিবহন নির্ভরযোগ্য। শক্তিশালী ইন্টারনেট সংযোগও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। কারণ নারীরা ক্রমেই আত্মনির্ভরশীল ভ্রমণ অভিজ্ঞতার দিকে ঝুঁকছেন, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।