বর্ষার শেষভাগে নতুন রূপ পেয়েছে রাঙামাটি। টইটম্বুর কাপ্তাই হ্রদ, পাহাড়জুড়ে ঘন সবুজ আর আকাশভরা সাদা মেঘ মিলিয়ে এখন জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে তৈরি হয়েছে ভিন্ন এক আবহ। বর্ষা শেষে শরতের শুরুতে জল-পাহাড়ের এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে রাঙামাটি হতে পারে ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণীয় গন্তব্য।

কাপ্তাই হ্রদের পানিতে প্রতিফলিত হচ্ছে মেঘের ছায়া। পাহাড়ি এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে জুমের তাজা সবজি, বাঁশকোঁড়লসহ স্থানীয় খাবারের স্বাদ। বর্ষায় পাহাড়ের ছড়া-ঝিরিগুলোও পানিতে ভরে ওঠে।

হ্রদের বুকে নৌভ্রমণ

কাপ্তাই হ্রদ ঘুরে দেখার অন্যতম আকর্ষণ বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতিসৌধ, বুড়িঘাট। রাঙামাটি শহর থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌযানে যেতে সময় লাগে প্রায় দেড় ঘণ্টা। পথে পাহাড়ি গ্রামের জীবনযাত্রাও দেখা যায়। সেখানে দুপুরের খাবার খেতে চাইলে স্থানীয় গাইডের মাধ্যমে আগে থেকে অর্ডার করা ভালো।

বর্ষায় প্রাণ ফিরে পায় শুভলং ঝরনা। নৌপথে যাওয়ার সময় কাপ্তাই হ্রদের দ্বীপ ও পাহাড়ের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। পথে চাংপাং ও রাঙা বেসক্যাম্পের মতো দ্বীপভিত্তিক খাবারের স্থানে পাহাড়ি খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

কোথায় থাকবেন

পরিবার নিয়ে থাকতে চাইলে শহরের কাছে রাঙাদ্বীপ রিসোর্টে কটেজ, সুইমিংপুল ও শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। রাত্রিযাপনের খরচ সুবিধাভেদে প্রতি রাতে প্রায় ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা।

কাপ্তাই হ্রদের পাড়ে পলওয়েল পার্কের কটেজেও থাকার সুযোগ রয়েছে। এখানে রাত্রিযাপনের খরচ প্রায় ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। এ ছাড়া রয়েছে আরণ্যক রিসোর্ট।

রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ঝুলন্ত সেতু, সানরাইজ পার্ক এবং শতবর্ষী গাছও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে একাধিক ইকো-রিসোর্ট। এসব স্থানে রাত্রিযাপনের খরচ সাধারণত ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা।

বাজেট ভ্রমণকারীদের জন্য শহরের বিভিন্ন এলাকায় ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে কক্ষ পাওয়া যায়। ভ্রমণের আগে হোটেল বা রিসোর্টে বুকিং করে যাওয়া ভালো।

যাতায়াত

ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে বাসে প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টায় সরাসরি রাঙামাটি যাওয়া যায়। বাসভেদে ভাড়া প্রায় ৯০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা।

আকাশপথে গেলে ঢাকা থেকে প্রায় ৪৫ মিনিটের ফ্লাইটে চট্টগ্রাম পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে রাঙামাটি যেতে আরও প্রায় ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে।

বর্ষার পর ভ্রমণে হঠাৎ বৃষ্টি ও পাহাড়ি সড়কের পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। নৌভ্রমণের ক্ষেত্রেও আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে যাত্রা করা নিরাপদ।

একনজরে

দর্শনীয় স্থান: কাপ্তাই হ্রদ, ঝুলন্ত সেতু, শুভলং ঝরনা, শুভলং পাহাড়, দুপ্পানি ঝরনা, পেদা টিং টিং, রাজবন বিহার, চাকমা রাজবাড়ি, জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর, পলওয়েল পার্ক, কাপ্তাই লেক ভিউ পয়েন্ট, লাভ পয়েন্ট, শান্তিধারা ঝরনা, মিতিংছড়ি ঝরনা, শিলছড়ি ঝরনা, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান ও বনরূপা ভাসমান বাজার।