থাইল্যান্ডের বুয়েং কান প্রদেশের ফু সিং এলাকায় দাঁড়িয়ে আছে প্রকৃতির তৈরি এক বিস্ময়কর শিলাগুচ্ছ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজ বনভূমির ওপর পাশাপাশি ভেসে আছে তিনটি বিশাল তিমি। স্থানীয় নাম ‘হিন স্যাম ওয়ান’, অর্থাৎ ‘তিন তিমির পাথর’। পর্যটকদের কাছে এটি ‘থ্রি হোয়েল রক’ নামে পরিচিত।
প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ বছর পুরোনো এই বালুকাপাথরের গঠন দীর্ঘ সময়ের ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক ক্ষয়ের ফলে বর্তমান আকৃতি পেয়েছে বলে থাইল্যান্ডের পর্যটন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পাশাপাশি থাকা তিনটি শিলা দূর থেকে মা, বাবা ও শিশু তিমির মতো দেখায়।
থ্রি হোয়েল রক ফু সিংয়ের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অংশ। বিশাল বালুকাপাথরের পাহাড়, বন, খাড়া শিলাপ্রাচীর ও নানা আকৃতির পাথরের সমন্বয়ে পুরো এলাকাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
তিনটি শিলার মধ্যে বড় দুটি, অর্থাৎ ‘বাবা তিমি’ ও ‘মা তিমি’ অংশে পর্যটকরা পায়ে হেঁটে যেতে পারেন। ছোট ‘শিশু তিমি’ অংশে যাওয়া যায় না। শিলার ওপর থেকে চারপাশের বনভূমি, পাহাড় এবং দূরে মেকং নদীর দৃশ্য দেখা যায়।
সকালের সময়টি এই গন্তব্যের অন্যতম আকর্ষণ। সূর্যোদয়ের সময় পাথরের ওপর আলো পড়লে পুরো দৃশ্য বদলে যায়। কিছু সময়ে নিচের উপত্যকায় কুয়াশার স্তর তৈরি হলে শিলাগুলোকে আরও নাটকীয় দেখায়।
তবে খাড়া শিলার কিনারায় নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। থাইল্যান্ডের পর্যটন কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, কিছু অংশে রেলিং নেই এবং ভেজা অবস্থায় পাথর পিচ্ছিল হতে পারে। তাই নির্ধারিত পথ ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ঘোরার পরামর্শ রয়েছে।
প্রকৃতির অনন্য আকৃতি দেখার পাশাপাশি থ্রি হোয়েল রক ভ্রমণকারীদের সামনে তুলে ধরে ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের দীর্ঘ এক অধ্যায়। তাই প্রকৃতিপ্রেমী, আলোকচিত্রপ্রেমী ও ভূতত্ত্বে আগ্রহী পর্যটকদের জন্য বুয়েং কানের এই গন্তব্যটি বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে।