মানুষ সব সময়ই অজানাকে জানতে চেয়েছে। এক সময় মুখে মুখে ছড়াত খবর। পরে হাতে লেখা চিরকুটে পৌঁছাত সংবাদ। কিন্তু তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসে মুদ্রণযন্ত্রের আবিষ্কারের পর। তখন থেকেই মানুষের হাতে নিয়মিতভাবে পৌঁছাতে শুরু করে সংবাদপত্র। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, কয়েকটি প্রাচীন পত্রিকা আজও সংবাদজগতের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হয়ে রয়েছে।

১৬০৫ সালে জার্মানির স্ট্রাসবার্গ শহরে ইয়োহান ক্যারোলাস প্রকাশ করেন ‘রিলেশন আলার ফ্যুরনেমেন উন্ড গেদেনকভুরদিগেন হিস্টোরিয়েন’। এটিকে বিশ্বের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সাপ্তাহিক এই পত্রিকায় তৎকালীন রাজনীতি ও যুদ্ধসংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হতো।

এর চার বছর পর, ১৬০৯ সালে জার্মানির ওলফেনবিউটেল শহর থেকে প্রকাশিত হয় ‘আভিসা রিলেশন ওডার জাইটুং’। একই সময়ে ইউরোপের অন্য দেশেও সংবাদপত্রের প্রচলন শুরু হয়। ১৬১৮ সালে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম থেকে প্রকাশিত হয় ‘কুরান্তে উয়েট ইতালিয়েন, ডুইটসল্যান্ডট ইত্যাদি’। এটি ছিল বিশ্বের প্রথম ব্রডশিট ধাঁচের সংবাদপত্র, যা আধুনিক বড় আকারের পত্রিকার পূর্বসূরি হিসেবে বিবেচিত।

ফ্রান্সে সংবাদপত্রের যাত্রা শুরু হয় ১৬৩১ সালে। থিওফ্রাস্ট রেনোদো সম্পাদিত ‘লা গাজেত’ ছিল দেশটির প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র। সে সময় ফরাসি রাজপরিবার ও অভিজাতদের মধ্যে এটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

এরপর ১৬৪৫ সালে সুইডেনে চালু হয় ‘পোস্ট ওখ ইনরিকেস তিদনিঙ্গার’। দেশটির রানি ক্রিস্টিনার উদ্যোগে প্রকাশিত এই পত্রিকাটি বিশ্বের প্রাচীনতম সংবাদপত্র, যা এখনো টিকে আছে। তবে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ২০০৭ সাল থেকে এটি কেবল অনলাইন সংস্করণেই প্রকাশিত হচ্ছে।

সংবাদপত্রের ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে ১৬৫০ সালে। জার্মানির লিপজিগ শহর থেকে প্রকাশিত হয় ‘আইনকোমেন্দে জাইটুংগেন’। এটিই ছিল বিশ্বের প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র। ফলে প্রতিদিনের সংবাদ নিয়মিতভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানোর নতুন ধারা শুরু হয়।

হাতে লেখা স্ক্রল থেকে শুরু করে আজকের স্মার্টফোনের পর্দা—সংবাদপত্রের এই দীর্ঘ পথচলা মানুষের জানার অদম্য আগ্রহেরই প্রতিফলন। সময়ের সঙ্গে অনেক ঐতিহাসিক পত্রিকা হারিয়ে গেলেও সংবাদ জানার সেই আগ্রহ আজও অটুট রয়েছে।