ঈদের ছুটি মানেই স্বল্প সময়ে ভিন্ন স্বাদের ভ্রমণের খোঁজ। আর সেই খোঁজে উত্তরাঞ্চলের পর্যটন মানচিত্রে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে রংপুরের বিনোদনকেন্দ্র ‘ভিন্ন জগত’। পরিবার, বন্ধু কিংবা শিশুদের নিয়ে একদিনের ছুটি কাটাতে এটি এখন অনেকের প্রথম পছন্দ।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার গঞ্জিপুরে প্রায় ১০০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই থিম পার্কটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও আধুনিক বিনোদনের সমন্বয়ে তৈরি। প্রবেশমুখেই রয়েছে লোহার ব্রিজ, যা পার হলেই বদলে যায় পুরো পরিবেশের আবহ। সবুজে ঘেরা এই জায়গায় ঢুকলেই দর্শনার্থীরা অনুভব করেন এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।
এই পার্কের অন্যতম আকর্ষণ দেশের প্রথম বেসরকারি প্লানেটেরিয়াম। এখানে প্রবেশ করলে গ্রহ-নক্ষত্রের জগৎ, মহাবিশ্বের সৃষ্টি এবং বিগব্যাং তত্ত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। বিনোদনের পাশাপাশি জ্ঞান আহরণের সুযোগ থাকায় এটি শিক্ষার্থীদের কাছেও বিশেষভাবে আকর্ষণীয়।
ভিন্ন জগতে রয়েছে বিভিন্ন দেশের স্থাপনার প্রতিরূপ, যেমন তাজমহল, আইফেল টাওয়ার, চীনের প্রাচীর ও মস্কোর ঘণ্টা। এছাড়া রয়েছে কৃত্রিম গুহা, ট্রেন, উড়োজাহাজের মডেলসহ নানা বিনোদন উপাদান। পুরো এলাকা জুড়ে রয়েছে পাখির কোলাহল ও ছায়াঘেরা পরিবেশ।
শিশুদের জন্য রয়েছে মেরিগো রাউন্ড, নাগরদোলা, বাম্পার কার, থ্রিডি মুভি, স্পেস জার্নি, মিনি ট্রেনসহ নানা রাইড। অধিকাংশ রাইডের টিকিট ২০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে হওয়ায় এটি সবার নাগালের মধ্যেই।
ওয়াটার পার্ক এই কেন্দ্রের আরেকটি বড় আকর্ষণ। এখানে কৃত্রিম সমুদ্রের ঢেউ, রঙিন পানির খেলা এবং নিরাপদ পরিবেশে পরিবারসহ সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে। প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় দর্শনার্থীরা নিশ্চিন্তে উপভোগ করতে পারেন।
এছাড়া দেশের প্রথম আউটডোর সাইন্স পার্কও রয়েছে এখানে। আর্কিমিডিস, নিউটন ও গ্যালিলিওর তত্ত্বের বাস্তব প্রয়োগ বিভিন্ন মডেলের মাধ্যমে দেখানো হয়। প্রায় ৪০টির মতো বিজ্ঞানভিত্তিক মডেল শিক্ষার্থীদের শেখার নতুন অভিজ্ঞতা দেয়।
দূর থেকে আসা পর্যটকদের জন্য রয়েছে ড্রিম প্যালেস রিসোর্টসহ আবাসন সুবিধা। আধুনিক কক্ষ, কনফারেন্স সেন্টার এবং বিনোদনের আয়োজন মিলিয়ে এটি পরিবারসহ থাকার জন্য উপযোগী।
রংপুর শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই পার্কে সহজেই যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন কিংবা বিমানযোগে রংপুর এসে সেখান থেকে স্থানীয় পরিবহনে পৌঁছানো সম্ভব।
সব মিলিয়ে ‘ভিন্ন জগত’ শুধু একটি বিনোদনকেন্দ্র নয়, বরং ঈদের ছুটিতে স্বল্প সময়ে বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা পাওয়ার একটি পূর্ণাঙ্গ গন্তব্য।