ঈদের ছুটিতে নগর জীবনের ব্যস্ততা থেকে দূরে কিছুটা প্রশান্তি খুঁজছেন? শান্ত, পরিচ্ছন্ন আর সবুজে ঘেরা পরিবেশে সময় কাটাতে উত্তরাঞ্চলের শহর রাজশাহী হতে পারে এক আদর্শ গন্তব্য। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রকৃতির অনন্য মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই শহর ইতোমধ্যেই পর্যটকদের কাছে নিরিবিলি ভ্রমণের জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
পদ্মার তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা পদ্মা নদী-ঘেরা এই শহর রেশম, আম ও লিচুর জন্য সুপরিচিত। পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, কম দূষণ এবং সবুজে ঘেরা সড়ক রাজশাহীকে দেশের অন্য শহর থেকে আলাদা করেছে। ‘রেশমনগরী’ ও ‘শিক্ষানগরী’ নামে পরিচিত এই শহরে রয়েছে দেশের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান।
ঈদের সময় বিকেল নামলেই পদ্মা পাড়ে জমে ওঠে ভিড়। লালন শাহ মুক্তমঞ্চ, পদ্মা গার্ডেন, আইবাধঁ ও টি-বাঁধ এলাকায় খোলা আকাশের নিচে নির্মল বাতাস উপভোগ করতে আসেন নানা বয়সী মানুষ। নদীর বালুচর, সবুজ ঘেরা পরিবেশ আর শান্ত আবহ ভ্রমণকে করে তোলে আরও উপভোগ্য।
শহরের অন্যতম আকর্ষণ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বিস্তীর্ণ সবুজের মাঝে অবস্থিত এই ক্যাম্পাসের ‘প্যারিস রোড’ পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। সারি সারি গাছঘেরা এই সড়ক, সিনেট ভবন, সাবাস বাংলাদেশ ভাস্কর্যসহ পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে রয়েছে নান্দনিক পরিবেশ।
ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর। দেশের প্রাচীনতম প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরগুলোর একটি এই প্রতিষ্ঠান। এখানে খ্রিস্টপূর্ব যুগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ের মূল্যবান নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে।
শহরের বাইরে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পুঠিয়া রাজবাড়ি পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ। মন্দির, দিঘি ও প্রাচীন স্থাপত্যে সমৃদ্ধ এই এলাকা ইতিহাসের এক জীবন্ত নিদর্শন। পাশাপাশি বাঘা উপজেলায় অবস্থিত বাঘা শাহী মসজিদ সুলতানি আমলের স্থাপত্যশৈলীর অনন্য উদাহরণ।
এছাড়া শহরের আশপাশে রয়েছে শিশু পার্ক, বোটানিক্যাল গার্ডেন, মনসুর আলী পার্কসহ বিনোদনের নানা স্থান, যেখানে পরিবার নিয়ে সময় কাটানো যায় সহজেই।
রাজশাহীর আরেকটি বড় আকর্ষণ এখানকার আম। যদিও ঈদের সময় পাকা আম পাওয়া যায় না, তবে বাগানজুড়ে কাঁচা আমের উপস্থিতি আগাম মৌসুমের ইঙ্গিত দেয়।