পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান হয়ে উঠেছে পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্য। ঈদের দিন থেকে টানা তিন দিন এই চিরসবুজ বনাঞ্চলে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এতে একদিকে যেমন প্রাণ ফিরে পেয়েছে পর্যটন খাত, অন্যদিকে বেড়েছে সরকারি রাজস্ব আয়।
উদ্যান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের তিন দিনে মোট ৪ হাজার ৭৪২ জন দেশি-বিদেশি পর্যটক টিকিট কেটে প্রবেশ করেছেন। এ সময়ে টিকিট বিক্রি থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার ৪১২ টাকা।
ঈদের দিন শনিবার উদ্যানটিতে প্রবেশ করেন ১ হাজার ৫২ জন পর্যটক। সেদিন টিকিট বিক্রি থেকে আয় হয় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। পরদিন রোববার পর্যটকের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৯০০ জনে। এতে আয় হয় প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার টাকা।
ঈদের তৃতীয় দিন সোমবারও ভিড় কমেনি। ওই দিন ১ হাজার ৭৯০ জন পর্যটক উদ্যানটি ঘুরে দেখেন। সেদিন রাজস্ব আয় হয় ২ লাখ ৪ হাজার ৪১২ টাকা।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর নিরিবিলি পরিবেশের কারণে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বরাবরই ভ্রমণপিপাসুদের কাছে জনপ্রিয়। বিশেষ করে ঈদের মতো দীর্ঘ ছুটিতে শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই এই বনাঞ্চলকে বেছে নেন।
ঈদে পর্যটক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ফিলা পতমী বলেন, এবারের ঈদে অন্যান্য সময়ের তুলনায় পর্যটক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বনবিভাগ, টুরিস্ট পুলিশ এবং সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি যৌথভাবে কাজ করেছে।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক জানান, ঈদের দিনের তুলনায় পরবর্তী দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা বেশি ছিল। এর ফলে রাজস্ব আয়ও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রসঙ্গত, জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান দেশের অন্যতম সংরক্ষিত বনাঞ্চল। এখানে রয়েছে বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে কাজ করে।