নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চল হাতিয়া ও নিঝুম দ্বীপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বন্যপ্রাণ এবং নির্জন পরিবেশের কারণে পর্যটকদের কাছে ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। মেঘনা নদীর মোহনায় বঙ্গোপসাগরের বুকে গড়ে ওঠা এই দ্বীপাঞ্চলে নদী, সাগর ও ম্যানগ্রোভ বন মিলিয়ে তৈরি হয়েছে বৈচিত্র্যময় পরিবেশ।

ঐতিহাসিকভাবে হাতিয়া দ্বীপের উৎপত্তি বহু প্রাচীন। ধারণা করা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে পলিমাটি জমে এই দ্বীপ গড়ে ওঠে এবং সময়ের সঙ্গে ভাঙন ও জোয়ার-ভাটার প্রভাবে এর ভৌগোলিক গঠন পরিবর্তিত হয়েছে। হাতিয়া সদর ও নিঝুম দ্বীপ এই অঞ্চলের প্রধান অংশ।

দ্বীপে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নদীপথই প্রধান ভরসা। চেয়ারম্যান ঘাট থেকে সি-ট্রাক, ট্রলার বা স্পিডবোটে মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে নলচিরা ঘাটে পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে স্থানীয় যানবাহনে ওছখালী বাজার ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানে যাওয়া সম্ভব। কমলা দিঘি, কেওড়া বন এবং নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

নিঝুম দ্বীপ এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। ২০০১ সালের ৮ এপ্রিল এটিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কেওড়াগাছে ঘেরা এই দ্বীপে চিত্রা হরিণের বিচরণ উল্লেখযোগ্য। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দ্বীপটিতে হরিণের সংখ্যা মানুষের চেয়েও বেশি। শীত মৌসুমে এখানে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির আগমন ঘটে।

নিঝুম দ্বীপে পৌঁছাতে হাতিয়ার উছখালী ও মোক্তারিয়া ঘাট হয়ে ট্রলারে বন্দরটিলা যেতে হয়। এরপর স্থানীয় পরিবহনে নামার বাজার হয়ে অল্প দূরত্ব হেঁটে সমুদ্রসৈকতে পৌঁছানো যায়। বিস্তীর্ণ বালুচর, নীরব পরিবেশ এবং সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের দৃশ্য পর্যটকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।

চৌধুরী খাল দিয়ে ট্রলারে ম্যানগ্রোভ বনে ভ্রমণও জনপ্রিয়। এ সময় কাছ থেকে হরিণ দেখার সুযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া সামুদ্রিক মাছ, কাঁকড়া, মহিষের দই এবং শীতকালে খেজুরের রস ও গুড় স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতির অংশ হিসেবে পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ায়।

ঢাকার সদরঘাট থেকে নিয়মিত লঞ্চে হাতিয়া যাতায়াত করা যায়। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকেও নির্দিষ্ট দিনে জাহাজ চলাচল করে। সড়কপথে নোয়াখালীর সোনাপুর হয়ে চেয়ারম্যান ঘাট পৌঁছে নদীপথে হাতিয়া যাওয়া সম্ভব।