সরকারি ছুটি শেষ হলেও দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকের ভিড় কমেনি। বরং প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে সৈকতজুড়ে এখনো উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টজুড়ে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দেখা যাচ্ছে পর্যটকদের সরব উপস্থিতি। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে সমুদ্রসৈকতে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ।

শুধু সৈকতেই সীমাবদ্ধ নেই পর্যটকদের আনাগোনা। মেরিন ড্রাইভ সড়কের আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতেও বেড়েছে ভ্রমণপিপাসুদের ভিড়। হিমছড়ি, ইনানি ও পাটুয়ারটেকসহ বিভিন্ন স্পটে পর্যটকরা প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। অনেকে আবার টেকনাফ জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ভ্রমণে যাচ্ছেন।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, ঈদের ছুটি, ২৬ মার্চের সরকারি ছুটি এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে পর্যটন খাতে ব্যাপক গতি এসেছে। ছুটি শেষ হলেও প্রতিদিনই হাজার হাজার পর্যটক কক্সবাজারে আসছেন।

তিনি আরও বলেন, হোটেল-মোটেলগুলোতে এখনো ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। অধিকাংশ আবাসিক হোটেলেই সন্তোষজনক বুকিং রয়েছে, যা স্থানীয় পর্যটন ব্যবসার জন্য ইতিবাচক সংকেত।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেল এবং লাইফগার্ড সদস্যরা। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ছুটির পরও পর্যটকের ধারাবাহিক উপস্থিতি কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পকে নতুন করে চাঙা করে তুলেছে। এটি স্থানীয় ব্যবসা, পরিবহন ও সেবাখাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সব মিলিয়ে, ছুটির পরেও পর্যটকদের অব্যাহত আগমন কক্সবাজারকে আবারও প্রাণবন্ত করে তুলেছে এবং পর্যটন খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে।