কৃষি খামার, অবকাশযাপন ও গ্রামীণ জীবনের অভিজ্ঞতা একসঙ্গে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বগুড়ার কাহালুতে গড়ে উঠছে ‘সুখের খামার অ্যাগ্রো ভিলেজ’। উদ্যোক্তাদের দাবি, এটি দেশের প্রথম কমিউনিটিভিত্তিক কৃষি পর্যটন প্রকল্প। এখানে পর্যটকেরা রিসোর্টে থাকার পাশাপাশি সমন্বিত কৃষি খামার, মাছ ও গবাদিপশুর খামারসহ গ্রামীণ কৃষিভিত্তিক কার্যক্রম দেখার সুযোগ পাবেন।

বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার পাইকড় ইউনিয়নের বাগইল গ্রামে প্রকল্পটির অবস্থান। শুক্রবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় ত্রয়োদশ এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারে প্রকল্পটির নকশা উন্মোচন করা হয়। একই অনুষ্ঠানে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত দেড় শতাধিক অংশীদারের হাতে জমির সাফ কবলা দলিল তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কণ্ঠশিল্পী ও সংগীত পরিচালক মিলন মাহমুদ। উপস্থিত ছিলেন সুখের খামার অ্যাগ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. তাসদীখ হাবীব ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়ের ইসলাম।

উন্মোচিত নকশা অনুযায়ী, প্রকল্পে থাকবে ১০০ কক্ষের রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, কনভেনশন হল, সুইমিং পুল ও বোটিং সুবিধা। এর সঙ্গে থাকবে সমন্বিত কৃষি খামার, ৪০০ গরুর খামার, বটম ক্লিন পদ্ধতির মাছের খামার, ছাগল ও দুম্বার খামার।

প্রকল্পে ১ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট, জামে মসজিদ ও হাফিজিয়া এতিমখানা মাদ্রাসাও থাকবে। মাটি ভরাট ও সড়ক নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। উদ্যোক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর থেকে পুরোদমে নির্মাণকাজ শুরু হবে।

চেয়ারম্যান মো. তাসদীখ হাবীব বলেন, কৃষকের অন্যতম বড় সমস্যা ন্যায্য দাম না পাওয়া। তাঁর মতে, কৃষি পর্যটন এ সমস্যার একটি সমাধান হতে পারে। এখানে কৃষক শুধু ফসল বিক্রি করেন না, কৃষির অভিজ্ঞতাও বিক্রি করেন।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়ের ইসলাম বলেন, ‘এক গ্রামে এক কোটি টাকার নতুন অর্থনীতি তৈরি হয়েছে। আমরা মাটি থেকে শুধু ফসল নয়, ভবিষ্যৎ ফলাতে চাই।’

উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য, ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের আটটি বিভাগে আটটি ‘সুখের খামার অ্যাগ্রো ভিলেজ’ গড়ে তোলা।

প্রকল্পে কী থাকছে

সাধারণ মানুষ শেয়ারের মাধ্যমে জমিসহ প্রকল্পের মালিক হওয়ার সুযোগ পাবেন। উদ্যোক্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের ১৫টি উৎস থেকে অর্জিত প্রকৃত লাভের অংশ অংশীদারেরা পাবেন। পাশাপাশি প্রতিবছর পরিবারসহ রিসোর্টে বিনা মূল্যে থাকার এবং উৎপাদিত পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে কেনার সুযোগ থাকবে।