পর্যটননির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন আকর্ষণ হিসেবে উঠে আসছে মৌলভীবাজারের বাঁশের ফার্নিচার। স্থানীয় উদ্যোক্তা আমির হোসেন সিরাজের তৈরি নান্দনিক এসব আসবাব এখন শুধু ঘর সাজানোর উপকরণ নয়, বরং পর্যটকদের কাছে স্মারক ও অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে উঠছে। হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজে এর ব্যবহার বাড়ায় জেলার পর্যটন খাতেও যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের বড়চেগ গ্রামে গড়ে ওঠা সিরাজের কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা বাঁশ দিয়ে আধুনিক ডিজাইনের বিভিন্ন ফার্নিচার তৈরি হচ্ছে। কাঠ ও বেতের প্রচলিত আসবাবের পাশাপাশি বাঁশের দৃষ্টিনন্দন সোফাসেট, খাট, ডাইনিং টেবিল, চেয়ার, আলনা, ড্রেসিং টেবিলসহ নানা পণ্য তৈরি করছেন কারিগররা।

২০১৫ সালে মৌলভীবাজারকে পর্যটন জেলা ঘোষণার পর থেকেই এ ফার্নিচারের চাহিদা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের রিসোর্টগুলোতে বাঁশের তৈরি আসবাব ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যায়। পর্যটকদের কাছে প্রাকৃতিক ও পরিবেশবান্ধব সাজসজ্জা হিসেবে এটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিদেশি পর্যটকরাও ছোট আকারের বিভিন্ন পণ্য কিনে নিয়ে যাচ্ছেন স্মারক হিসেবে।

কারখানার শিল্পীরা জানান, একটি বড় ফার্নিচার তৈরি করতে তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে। প্রথমে বাঁশ শুকানো হয়, পরে পোকামাকড় থেকে রক্ষা করতে বিশেষ প্রক্রিয়ায় আবার শুকানো হয়। ছোট আকারের পণ্য যেমন টেবিল ল্যাম্প, পেন স্ট্যান্ড বা ফুলের টব বেশি বিক্রি হয়।

উদ্যোক্তা আমির হোসেন সিরাজ প্রায় দুই দশক আগে অল্প পুঁজি নিয়ে এ ব্যবসা শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার উদ্যোগ বড় হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশেও রপ্তানি হচ্ছে এসব পণ্য। অনলাইন ও কুরিয়ার সেবার মাধ্যমেও বিক্রি বাড়ছে।

স্থানীয়দের মতে, কাঠের তুলনায় বাঁশের ফার্নিচার তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় পর্যটকদের পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতাদের কাছেও এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। পর্যটন এলাকা হওয়ায় সারা বছরই এখানে দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকে, যা এই কুটির শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করছে।

শ্রীমঙ্গল শিল্পনগরীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উদ্যোক্তাদের ঋণ সহায়তা দেওয়া হলে এ খাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। বর্তমানে ২ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।