বান্দরবানের পর্যটন এলাকায় ফের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জেলার বালাঘাটা এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে বেড়াতে আসা এক পর্যটককে মারধর ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় এক নারীকে হেনস্তার প্রতিবাদ করায় ওই পর্যটকের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।
শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে বান্দরবান পৌরসভার বালাঘাটা আমবাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার মো. রেজাউল করিম চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বাসিন্দা। অভিযুক্ত কাজল বড়ুয়া বালাঘাটা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পর্যটক রেজাউল করিম আমবাগান এলাকার একটি দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় পাশের বাসিন্দা সুমি মারমাকে উদ্দেশ্য করে অভিযুক্তরা গালিগালাজ ও উগ্র আচরণ করতে থাকেন। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে রেজাউল করিমকে টেনে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয়দের দাবি, কাজল বড়ুয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। কয়েকটি মামলার কথাও উল্লেখ করেন তারা। তবে এসব বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমি মারমা বলেন, তিনি একজন বিধবা নারী। অভিযুক্ত কাজল বড়ুয়া ও শহীদ প্রায়ই তার বাসায় গিয়ে মদ এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন। ঘটনার দিনও বৃষ্টির মধ্যে বাসায় ঢুকে তারা মদ দাবি করেন। তার অসুস্থ শিশুসন্তানের কারণে তিনি অস্বীকৃতি জানালে তাকে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সুমি মারমার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় পর্যটক রেজাউল করিম বিষয়টি থামানোর চেষ্টা করলে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
নির্যাতনের শিকার রেজাউল করিম জানান, বান্দরবান ভ্রমণে এসে ফিশ ফ্রাই খেতে তিনি ওই এলাকায় যান। সেখানে বসে থাকা অবস্থায় কাজল বড়ুয়া তাকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। কারণ জানতে চাইলে তাকে কলার ধরে টেনে নিয়ে মারধর করা হয়।
তিনি আরও বলেন, নিজেকে পর্যটক পরিচয় দেওয়ার পরও আরও দুই ব্যক্তি হামলায় যোগ দেন। একপর্যায়ে তার পকেট থেকে ৫ হাজার ৩০০ টাকা নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে সন্ধ্যায় বান্দরবান সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্ত কাজল বড়ুয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে ঝগড়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে কারও টাকা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
বান্দরবান সদর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক সৌরভ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওয়াহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পর্যটননির্ভর জেলা হিসেবে পরিচিত বান্দরবানে এমন ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা চান সংশ্লিষ্টরা।