ঈদুল ফিতরে পর্যটকের ভিড়ে মুখর ছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ। তবে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে ঈদুল আজহাকে ঘিরে সেই চিত্রে ভাটা পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এবার এখনো পর্যন্ত হোটেল-রিসোর্টে আশানুরূপ বুকিং না হওয়ায় উদ্বেগে পড়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সাধারণত ঈদের অন্তত এক মাস আগে থেকেই শ্রীমঙ্গলের রিসোর্ট ও হোটেলগুলোতে অগ্রিম বুকিং শুরু হয়। কিন্তু এবার বুকিংয়ের হার তুলনামূলক কম। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ভ্রমণে আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে। শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সাম্প্রতিক রোগপ্রবণতার কারণে অনেক পরিবার ভ্রমণ পরিকল্পনা পিছিয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের বিভিন্ন রিসোর্ট মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের সময় সাধারণত শতভাগ বুকিং হওয়া নভেম ইকো রিসোর্ট, বালিশিরা, চাওমিন, টিলাগাঁও ও অরণ্য নিবাস রিসোর্টে এখনো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কক্ষ খালি রয়েছে।
রাধানগর পর্যটন কল্যাণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং নিসর্গ নীরব ইকো কটেজের স্বত্বাধিকারী কাজী শামসুল হক বলেন, ঈদ মৌসুমের আয়কে কেন্দ্র করেই বছরের বড় অংশের ব্যবসা পরিচালিত হয়। পর্যটক কমে গেলে শুধু হোটেল-রিসোর্ট নয়, পরিবহন, রেস্টুরেন্ট, স্থানীয় দোকান, ট্যুর গাইড ও শ্রমজীবী মানুষের ওপরও এর প্রভাব পড়বে।
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত তাদের প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০ শতাংশ বুকিং হয়েছে। তবে ঈদের ছুটি সামনে থাকায় শেষ সময়ে আরও কিছু বুকিং বাড়ার আশা করছেন তারা।
শ্রীমঙ্গলের রাধানগর এলাকার চামুং রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী তাপস দাস বলেন, ঈদের সময় পর্যটকদের কারণে তাদের বিক্রি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এবার পর্যটক কম এলে ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সভাপতি সেলিম আহমেদ বলেন, দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় অনেক পরিবার ভ্রমণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া অতিবৃষ্টি এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ পর্যটন এলাকার সংযোগ সড়কের বেহাল অবস্থাও পর্যটক কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।
পর্যটন ব্যবসায়ী ও ট্যুর গাইড অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবও পর্যটন খাতে পড়ছে। পাশাপাশি গত কয়েক বছরে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় খাতটি চাপের মধ্যে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সড়ক ও রেলপথের দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা এবং যানজটের কারণে বিদেশি পর্যটকরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিলেট-ঢাকা রেলপথে ট্রেন সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
পর্যটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল চৌধুরী বলেন, জেলা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি যৌথভাবে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পাশাপাশি যানজট নিরসনেও কাজ করা হবে, যাতে পর্যটকেরা নির্বিঘ্নে ঈদের ছুটি উপভোগ করতে পারেন।