এশিয়ার বিমানবন্দর গড়ার দৌড়ে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। দীর্ঘ পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে সংস্কার ও সম্প্রসারণের কাজ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে নতুন টার্মিনাল-২।
এই টার্মিনাল ভবিষ্যতে হংকংকে আরও শক্তিশালী বৈশ্বিক বিমান চলাচল কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। খবর: সিএনএন।
বর্তমানে বিশ্বের সেরা বিমানবন্দরগুলোর তালিকায় চতুর্থ স্থানে থাকা হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নতুন টার্মিনালের মাধ্যমে যাত্রীসেবা ও সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রায় ৩২ লাখ বর্গফুট আয়তনের এই টার্মিনালে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার করা হয়েছে। যাত্রীরা স্বয়ংক্রিয় চেক-ইন কিয়স্ক, ব্যাগেজ সেলফ-ড্রপ সুবিধা এবং আধুনিক কাউন্টারের মাধ্যমে মাত্র ৪৫ সেকেন্ডের মধ্যে চেক-ইন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
নতুন টার্মিনালটি বিশেষভাবে তরুণ ভ্রমণকারীদের কথা মাথায় রেখে সাজানো হয়েছে। এখানে রয়েছে জনপ্রিয় ফাস্টফুড ব্র্যান্ড, স্থানীয় ডিজাইনারদের পোশাকের দোকান এবং বিনোদনের জন্য আধুনিক গেমিং জোন। টার্মিনালের অভ্যন্তরে বড় এলইডি স্ক্রিন, ঢেউ ও সামুদ্রিক জীবের ডিজিটাল প্রদর্শনী এবং নান্দনিক নকশার ছাদ যাত্রীদের জন্য ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।
হংকং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম বছরে টার্মিনাল-২ প্রায় ৮০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেবে। ভবিষ্যতে এর বার্ষিক সক্ষমতা ৩ কোটি যাত্রীর কাছে পৌঁছাবে। বিদ্যমান টার্মিনাল-১-এর ৭ কোটি যাত্রী ধারণক্ষমতার সঙ্গে মিলিয়ে পুরো বিমানবন্দরের মোট বার্ষিক সক্ষমতা ১০ কোটিতে উন্নীত হবে।
তবে নতুন টার্মিনাল উদ্বোধন ঘিরে প্রত্যাশিত উৎসাহ দেখা যায়নি। উদ্বোধনের দিন কেবল একটি এয়ারলাইনস কার্যক্রম শুরু করলেও ধীরে ধীরে আরও কয়েকটি আঞ্চলিক বিমান সংস্থা সেখানে কার্যক্রম চালু করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হংকংয়ের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা। বিশেষ করে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর বহু বছর ধরে বিশ্বের সেরা বিমানবন্দর হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। পাশাপাশি চীনের গুয়াংজু ও শেনজেন বিমানবন্দরও দ্রুত সম্প্রসারণের মাধ্যমে যাত্রী আকর্ষণে এগিয়ে যাচ্ছে।
তবে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা হংকং ও অন্যান্য এশীয় বিমানবন্দরগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। ইরান-সংক্রান্ত সংঘাতের কারণে অনেক যাত্রী মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিমান সংস্থার পরিবর্তে এশিয়ার এয়ারলাইনস বেছে নিচ্ছেন। এর ফলে হংকং বিমানবন্দরে যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হংকংয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বিপুল সংখ্যক মূল ভূখণ্ড চীনা পর্যটক। এই বাজারের সুবিধা কাজে লাগাতে পারলে বিমানবন্দরটি ভবিষ্যতে এশিয়ার অন্যতম প্রধান বিমান চলাচল কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
নতুন টার্মিনাল-২ উদ্বোধনের মাধ্যমে হংকং স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। সেটা হলো, এশিয়ার বিমানবন্দর প্রতিযোগিতায় তারা পিছিয়ে থাকতে চায় না। এখন দেখার বিষয়, এই বিনিয়োগ কতটা সফলভাবে হংকংকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিমান পরিবহনের নতুন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।