কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পেঁচার দ্বীপে পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণ হিসেবে তৈরি হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কাঠের ‘মুন বোট’। সমুদ্র ও রেজুখাল নদীপথে শান্ত পরিবেশে ভ্রমণের চাহিদা বাড়ায় স্থানীয় কারিগররা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন এসব নৌকা নির্মাণে। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ একদিকে যেমন দর্শনার্থীদের নতুন অভিজ্ঞতা দেবে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সম্প্রতি পেঁচার দ্বীপ পরিদর্শনে দেখা যায়, স্থানীয় কারিগররা কাঠ, বাঁশসহ স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে ঐতিহ্যবাহী নকশার মুন বোট নির্মাণ করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ নৌকা নির্মাতা নুর হোসেন।
তিনি বলেন, "পেঁচার দ্বীপ এখন পর্যটকদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বছরের প্রায় সব সময়ই দর্শনার্থীরা এখানে আসেন এবং গ্রামের ছোট ছোট কটেজগুলোতে পর্যটকদের উপস্থিতি থাকে। কেউ সমুদ্রে ঘুরতে চান, আবার কেউ রেজুখাল নদীতে শান্ত পরিবেশে নৌভ্রমণ উপভোগ করতে চান। সেই চাহিদা পূরণেই আমরা মুন বোট তৈরি করছি।"
নুর হোসেন জানান, এসব নৌকা শুধু যাতায়াতের জন্য নয়, বরং আরামদায়ক ও নান্দনিক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও নির্মাণ করা হচ্ছে।
তার ভাষায়, "নিরাপত্তা ও সৌন্দর্য দুটিকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে নৌকাগুলো তৈরি করা হচ্ছে। পর্যটকদের আগ্রহও দিন দিন বাড়ছে।"
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নিরিবিলি পরিবেশ এবং মেরিন ড্রাইভের মনোরম দৃশ্য পেঁচার দ্বীপকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। সমুদ্র ও রেজুখালে মুন বোটে ভ্রমণের সুযোগ যুক্ত হলে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হবে।
পর্যটনসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিবেশবান্ধব নৌভ্রমণ চালু হলে পেঁচার দ্বীপ একটি সম্ভাবনাময় ইকো-ট্যুরিজম গন্তব্য হিসেবে আরও পরিচিতি পাবে। একই সঙ্গে স্থানীয় কারিগর, মাঝি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
যা জানা জরুরি:
অবস্থান: কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পেঁচার দ্বীপ
নতুন আকর্ষণ: ঐতিহ্যবাহী মুন বোটে সমুদ্র ও রেজুখাল ভ্রমণ
নির্মাণ উপকরণ: কাঠ, বাঁশ ও স্থানীয় উপকরণ
সম্ভাব্য সুফল: পর্যটন বিকাশ, স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং ইকো-ট্যুরিজমের প্রসার