টানা ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি বিবেচনায় বান্দরবান পার্বত্য জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এটি চলতি মৌসুমে তৃতীয় দফায় পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা। প্রশাসনের ভাষ্য, পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস, সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়া এবং আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায় পর্যটক ও স্থানীয়দের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বান্দরবান জেলায় অব্যাহত ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঝুঁকির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যমান আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় গত ৮ জুলাই জারি করা জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির ধারাবাহিকতায় জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

এ সময় জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র, ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটর ও সাধারণ মানুষের ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকবে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলতে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বান্দরবান বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পাহাড়ি পর্যটন গন্তব্য। বর্ষা মৌসুমে জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি সড়কে ভূমিধস, সড়ক ক্ষতি এবং পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ কারণে প্রশাসন প্রায়ই পরিস্থিতি বিবেচনা করে সাময়িকভাবে পর্যটন কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ রাখে।

এর আগে ৬ জুলাই প্রথম দফায় পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকি অব্যাহত থাকায় দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ ১২ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ভারী বর্ষণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ঝুঁকি বিবেচনায় তৃতীয় দফায় সেই মেয়াদ বাড়িয়ে ১৫ জুলাই পর্যন্ত করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের বর্তমান মেয়াদ: ১৫ জুলাই পর্যন্ত

নিষেধাজ্ঞার আওতায়: পর্যটনকেন্দ্র, ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ ও দুর্গম এলাকা

কারণ: টানা ভারী বর্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার ঝুঁকি এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা