বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহর মানেই শুধু মানুষের ভিড়, যানজট আর সুউচ্চ ভবন নয়। ইতিহাস, খাবার, সংস্কৃতি ও আধুনিক নগরজীবনের বৈচিত্র্যে এসব শহরের অনেকগুলোই আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র। ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউয়ের ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১০টি জনবহুল শহরে প্রায় ২০ কোটি মানুষের বসবাস। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য শহরগুলোতে রয়েছে ঐতিহাসিক স্থাপনা, ব্যস্ত বাজার, বৈচিত্র্যময় খাবার ও আধুনিক নগরদৃশ্য।

সাংহাই, চীন

২ কোটি ৪৭ লাখ ২২ হাজার ২৫৪ জনসংখ্যার সাংহাই তালিকার শীর্ষে। আধুনিক পুডংয়ের আকাশচুম্বী ভবন, ঐতিহ্যবাহী বুন্ড, চীনা বাগান ও নানজিং রোড শহরটির প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। স্থানীয় জনপ্রিয় খাবার শিয়াওলংবাও চেখে দেখাও অনেক পর্যটকের তালিকায় থাকে।

দিল্লি, ভারত

দিল্লির জনসংখ্যা ২ কোটি ৩৩ লাখ ৯০ হাজার ৩৮৩। পুরান দিল্লির সরু গলি ও বাজার থেকে নতুন দিল্লির প্রশস্ত সড়ক পর্যন্ত শহরটিতে পুরোনো ও আধুনিক ভারতের মিশ্র রূপ দেখা যায়। মুঘল স্থাপত্য, মন্দির ও ঐতিহ্যবাহী বাজারের পাশাপাশি আগ্রা, জয়পুর ও হিমালয় অঞ্চলে ভ্রমণের সূচনাস্থল হিসেবেও দিল্লি গুরুত্বপূর্ণ।

কিনশাসা, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র

কঙ্গো নদীর তীরে অবস্থিত কিনশাসার জনসংখ্যা ২ কোটি ১৮ লাখ ৫২ হাজার ১৪৪। আফ্রিকার বৃহৎ ফরাসিভাষী এই শহর সংগীত, স্থানীয় খাবার, রঙিন বাজার ও জাদুঘরের জন্য পরিচিত। নদীর ওপারে প্রতিবেশী কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ব্রাজাভিলের দৃশ্যও পর্যটকদের আগ্রহ জাগায়।

মুম্বাই, ভারত

২ কোটি ১৭ লাখ ৮২ হাজার ৮১৮ মানুষের মুম্বাইয়ে ঔপনিবেশিক স্থাপত্য ও আধুনিক আকাশচুম্বী ভবনের সহাবস্থান রয়েছে। গেটওয়ে অব ইন্ডিয়া, মেরিন ড্রাইভ, ঐতিহাসিক রেলস্টেশন ও স্থানীয় বাজার জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান। ফেরিতে ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্য এলিফ্যান্টা গুহায়ও যাওয়া যায়।

বেইজিং, চীন

বেইজিংয়ের জনসংখ্যা ২ কোটি ১৫ লাখ ৭১ হাজার ৬৯৩। ফরবিডেন সিটি, টেম্পল অব হেভেন ও ঐতিহ্যবাহী হুতং এলাকা শহরটির পর্যটন পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চীনের মহাপ্রাচীর ঘুরে দেখার অন্যতম প্রধান প্রবেশপথও বেইজিং।

করাচি, পাকিস্তান

আরব সাগরের তীরবর্তী করাচিতে ২ কোটি ১২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৯০ মানুষের বসবাস। সৈকত, ঔপনিবেশিক স্থাপত্য, বাজার ও বৈচিত্র্যময় খাবার শহরটির পর্যটন আকর্ষণ। ক্লিফটন বিচ ও ম্যানগ্রোভ অঞ্চল প্রকৃতিপ্রেমীদেরও আকর্ষণ করে।

শেনজেন, চীন

২ কোটি ৬ লাখ ২২ হাজার ৬২৯ জনসংখ্যার শেনজেন কয়েক দশকে মাছধরার ছোট জনপদ থেকে বৈশ্বিক প্রযুক্তিনগরে রূপ নিয়েছে। আধুনিক স্থাপত্য, জাদুঘর, বিনোদন উদ্যান, বড় বিপণিবিতান ও নদীতীরবর্তী উদ্যান রয়েছে এখানে। হংকংয়ের কাছাকাছি হওয়ায় দক্ষিণ চীন ভ্রমণের সূচিতেও শহরটি রাখা যায়।

গুয়াংজু, চীন

গুয়াংজুর জনসংখ্যা ১ কোটি ৮৫ লাখ ১৫ হাজার ৪১০। চীনের প্রাচীন বাণিজ্যবন্দরগুলোর একটি এই শহর ক্যান্টনিজ খাবার ও সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত। পার্ল নদী, মন্দির ও বাজার ঘোরার পাশাপাশি ডিম সামের স্বাদ নেওয়া পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।

কানো, নাইজেরিয়া

১ কোটি ৭৫ লাখ ১০ হাজার ২৪৭ মানুষের কানো পশ্চিম আফ্রিকার প্রাচীন জনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর একটি। পুরোনো নগরপ্রাচীর, ঐতিহ্যবাহী রং তৈরির গর্ত ও বাজার সাহারা-পার বাণিজ্যের ইতিহাস তুলে ধরে। আমিরের প্রাসাদ, মসজিদ ও স্থানীয় হস্তশিল্পও পর্যটকদের আগ্রহের বিষয়।

চেংদু, চীন

চেংদুর জনসংখ্যা ১ কোটি ৫৮ লাখ ৩১ হাজার ৫৭১। জায়ান্ট পান্ডা ও সিচুয়ান খাবারের জন্য শহরটির বিশ্বজোড়া পরিচিতি রয়েছে। পান্ডা প্রজননকেন্দ্র, ঐতিহ্যবাহী চা-ঘর এবং হটপট ও মাপো তোফুর মতো স্থানীয় খাবার পর্যটকদের আকর্ষণ করে। কাছাকাছি পাহাড়, বৌদ্ধ মঠ ও ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকাতেও সহজে যাওয়া যায়।