বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারকে পরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরীতে রূপ দিতে ১৭৪ কোটি টাকার একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। ভূমির সুষ্ঠু ব্যবহার, পরিবেশ সংরক্ষণ, পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ নগর ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে প্রণয়ন করা হচ্ছে জেলার দুটি পৃথক মাস্টারপ্ল্যান।

কউকের বাস্তবায়নাধীন "কক্সবাজার জেলার মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন (১ম সংশোধিত)" প্রকল্পের আওতায় জেলার ৯টি উপজেলা এবং সমুদ্রসৈকতসহ মোট ৬৯০ দশমিক ৬৭ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান) এবং সমগ্র জেলার ২ হাজার ৪৯১ দশমিক ৮৩ বর্গকিলোমিটার এলাকার জন্য স্ট্রাকচার প্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে।

প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৪ দশমিক ৭২ কোটি টাকা। ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৭৭ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শেষ হওয়ার আশা রয়েছে।

মাস্টারপ্ল্যানে ২০২৩ থেকে ২০৪৩ সাল পর্যন্ত সময়কে বিবেচনায় রেখে ভূমি ব্যবহার, পর্যটন উন্নয়ন, যোগাযোগ ও পরিবহন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ও স্যানিটেশন, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হোটেল, রিসোর্ট ও অন্যান্য পর্যটন অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়নের রূপরেখাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কউকের চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু নাঈম মো. তালাত জানিয়েছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধ, ভূমির যৌক্তিক ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এ মহাপরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।

এদিকে সরকারও কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকা ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের উন্নয়নসংক্রান্ত বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যেখানে পর্যটন উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে সেখানে পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যানের লক্ষ্য কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করা। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পর্যটন এলাকা নির্ধারণ, মেরিন ড্রাইভ ও উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন এবং বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

তথ্যসংক্ষেপ

• প্রকল্প ব্যয়: ১৭৪.৭২ কোটি টাকা
• প্রকল্প এলাকা: সমগ্র কক্সবাজার জেলা
• ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান: ৬৯০.৬৭ বর্গকিলোমিটার
• স্ট্রাকচার প্ল্যান: ২,৪৯১.৮৩ বর্গকিলোমিটার
• প্রকল্পের অগ্রগতি: ৭৭ শতাংশ (জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত)