তুষারে ঢাকা পাহাড়, সাদা চাদরে মোড়া রাস্তা আর শীতের রোমাঞ্চ। এসব কারণেই শীতকালে পর্যটকদের প্রথম পছন্দের তালিকায় থাকে ভারতের হিমাচল প্রদেশ। কিন্তু সেই তুষারই এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। টানা ৪৮ ঘণ্টার ভারী তুষারপাতে বিপর্যস্ত রাজ্যটির স্বাভাবিক জনজীবন। বন্ধ হয়ে গেছে তিনটি জাতীয় সড়কসহ অন্তত ৮৩৫টি রাস্তা। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন পাহাড়ি এলাকায় আটকে পড়া দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জনপ্রিয় শৈলশহর মানালি ও আশপাশের এলাকায় রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ তুষারে ঢেকে গেছে। যান চলাচল বন্ধ থাকায় বিভিন্ন জাতীয় সড়কে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। অনেক পর্যটক খাবার ও পানির সংকটে পড়ে রাতভর গাড়ির মধ্যেই আটকে ছিলেন।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় কোঠি-মানালি জাতীয় সড়কে। সেখানে আটকে পড়া বহু পর্যটককে প্রায় ২০ কিলোমিটার দুর্গম পাহাড়ি পথ হেঁটে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে। সঙ্গে ছিল না পর্যাপ্ত খাবার বা পানীয়। তুষারপাতের কারণে একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎবিভ্রাট দেখা দিয়েছে, বন্ধ হয়ে গেছে মোবাইল নেটওয়ার্কও। এতে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
শিমলা, কুলু ও মানালিতে তুষারপাত দেখার আশায় গত কয়েক দিনে পর্যটকদের ভিড় বাড়তে থাকে। কিন্তু টানা দুই দিনের প্রবল তুষারপাতে সেই আনন্দ ভ্রমণ অনেকের জন্য ভয়ংকর অভিজ্ঞতায় রূপ নিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের নিরাপদ এলাকায় সরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, পশ্চিমা ঝঞ্ঝার প্রভাবে আগামী ২৬ থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত হিমাচল প্রদেশে ভারী তুষারপাত ও বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কুল্লু, কিন্নৌর, চাম্বা ও লাহৌল–স্পিতি জেলায় ভারী তুষারপাতের পূর্বাভাস দিয়ে অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। রাজ্যের আরও ৯টি জেলায় ইয়েলো অ্যালার্ট দেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় বজ্রঝড় ও বজ্রপাতের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।