সিরাজগঞ্জ শহরের মাছুমপুর মহল্লার ‘মাছুমপুর ফ্রেন্ডস্ ক্লাব’ এর একদল ভ্রমণপ্রেমী বন্ধুর উদ্যোগে আবারও অনুষ্ঠিত হলো তাদের বার্ষিক কক্সবাজার ভ্রমণ। গত ২ এপ্রিল তারা বাসযোগে সিরাজগঞ্জ থেকে যাত্রা শুরু করে এবং ৫ এপ্রিল ফিরে আসে, চার দিনের এই সফর যেন পরিণত হয়েছিল এক অনন্য আনন্দ উৎসবে।

এই ভ্রমণের মূল উদ্যোক্তা মোঃ রাজু সেখ শুরু থেকেই পুরো আয়োজনটি সুসংগঠিতভাবে পরিচালনা করেন। যাত্রার শুরুতেই বাসের ভেতর গান, আড্ডা আর হাস্যরসে জমে ওঠে পরিবেশ। এ বিষয়ে সবুজ বলেন, ‘বাসের মধ্যেই আমাদের আনন্দ শুরু হয়, এই যাত্রাটাই আমাদের কাছে আলাদা এক উৎসব।’

দীর্ঘ যাত্রার মাঝেও ক্লান্তির কোনো ছাপ ছিল না অংশগ্রহণকারীদের মাঝে। রিদয় জানান, ‘খুব কম খরচে এত সুন্দরভাবে ঘুরতে পারাটা সত্যিই দারুণ অভিজ্ঞতা।’

৩ ও ৪ এপ্রিল কক্সবাজারে অবস্থানকালে সমুদ্র সৈকতে গিয়ে পরিবারসহ সবাই উপভোগ করেন অপরিসীম আনন্দ। ঢেউয়ের সাথে খেলাধুলা, একসাথে হাঁটাহাঁটি এবং সূর্যাস্ত উপভোগ—সব মিলিয়ে যেন প্রকৃতির মাঝে এক মিলনমেলা। এ প্রসঙ্গে মুনছুর বলেন, “এখানে এসে মনে হয় আমরা সবাই এক পরিবার, ছোট-বড় সবাই একসাথে খুব সুন্দর সময় কাটাই।”

শুধু ঘোরাঘুরি নয়, এই ভ্রমণের আরেকটি বিশেষ দিক ছিল নিজেদের উদ্যোগে হোটেলে রান্নার ব্যবস্থা করা। সবাই মিলে রান্না করা এবং একসাথে বসে খাওয়ার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় এক আন্তরিক পরিবেশ। সাঈদী বলেন, “এই ধরনের আয়োজন আমাদের মাঝে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি আরও বাড়িয়ে দেয়।”

প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো সময়কে বিশেষভাবে উপভোগ করেন অংশগ্রহণকারীরা। হিমেল বলেন, “বন্ধু ও পরিবারের সাথে এমন সময়গুলো সত্যিই অমূল্য, যা সারাজীবন মনে থাকবে।”

অন্যদিকে, রাসেল মনে করেন এই ভ্রমণ শুধু আনন্দের নয়, বরং সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় করার একটি সুযোগ। তিনি বলেন, “এমন ভ্রমণ আমাদের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।”

পরিবারসহ অংশগ্রহণের সুযোগ থাকায় এই আয়োজনটি পেয়েছে আলাদা মাত্রা। নাবিন বলেন, “পরিবার নিয়ে এমন সুন্দর পরিবেশে ঘোরার সুযোগ খুব কমই মেলে, এটি সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ।”

প্রতিবছরের মতো এবারও নতুন নতুন অভিজ্ঞতা যোগ হয়েছে বলে জানান সজল। তিনি বলেন, “প্রতিবারই এই ভ্রমণ আমাদের জন্য নতুন আনন্দ নিয়ে আসে।”

সমুদ্রের পাশে কাটানো মুহূর্তগুলো নিয়ে আবেগ প্রকাশ করে সোনাই বলেন, “এখানে এসে সব দুশ্চিন্তা ভুলে থাকা যায়, সত্যিই অসাধারণ অনুভূতি।”

সবশেষে রাবু বলেন, “এমন সুন্দর উদ্যোগ যেন ভবিষ্যতেও চলমান থাকে, আমরা সবাই এর সাথে থাকতে চাই।”

৫ এপ্রিল কক্সবাজার থেকে ফেরার সময়ও বাসের ভেতর আনন্দ-উল্লাসে ভরে ওঠে পুরো পরিবেশ। পুরো সফরজুড়ে স্বল্প খরচে এত সুন্দর একটি আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তুষ্ট সবাই। উদ্যোক্তা মোঃ রাজু সেখ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটাই—সবাইকে নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করা। ১৫ বছর ধরে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারাটা আমাদের জন্য গর্বের।”

১৫ বছরের এই ধারাবাহিক ভ্রমণ আজ শুধুই একটি আয়োজন নয়, বরং একটি ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। স্বল্প খরচে, পরিবারসহ, আনন্দময় ভ্রমণের এই উদ্যোগ সিরাজগঞ্জের গণ্ডি পেরিয়ে অন্যদের জন্যও হতে পারে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।