ছুটি সাধারণত এমন এক অভিজ্ঞতা, যা নতুন সুন্দর স্মৃতির জন্য মনে থাকে। নতুন কোনো প্রিয় রেস্টুরেন্ট খুঁজে পাওয়া, নিজের চোখে কোনো ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখা, কিংবা একেবারে নতুন জায়গায় প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে ভ্রমণ সত্যিই জাদুকরী। তবে বিরল কিছু ক্ষেত্রে ছুটি অন্য কারণেও স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে: বাড়ি থেকে বহু দূরে থাকাকালে নিজের জিনিসপত্র চুরি হয়ে যাওয়া।

অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির মতে, পর্যটকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের মধ্যে চুরি সবচেয়ে সাধারণ। জিনিসপত্র চুরি হলে সাধারণত শুধু বস্তুগত ক্ষতিই হয়, যা অনেক সময় পূরণ করা সম্ভব। কিন্তু তাই বলে এটি কম বিরক্তিকর বা উদ্বেগজনক নয়।

বিশ্বের যেকোনো জায়গাতেই চুরির ঘটনা ঘটতে পারে। তবে ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান Atmos ভ্রমণকারীদের সচেতন রাখতে চেয়েছে—কোন গন্তব্যগুলোতে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র রক্ষায় একটু বেশি সতর্ক থাকা দরকার। গত ডিসেম্বর তারা ইউরোপের যেসব গন্তব্যে পর্যটকদের বিরুদ্ধে চুরির হার সবচেয়ে বেশি, তার একটি তালিকা প্রকাশ করে। এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে স্থানীয় অপরাধের হার বিশ্লেষণ করে, যার মধ্যে ছিল বাসাবাড়িতে চুরি, গাড়ি চুরি, সাধারণ চুরির পরিসংখ্যান এবং ছিনতাইয়ের হার। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে তারা যুক্তরাজ্যকে তালিকার শীর্ষে রেখেছে।

প্রতিবেদনে সরাসরি বলা হয়েছে, “যুক্তরাজ্য ইউরোপে পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ গন্তব্য। এখানে যারা ছুটির বাড়ি ভাড়া নেন, তাদের জানা উচিত যে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ ৫৪ হাজার বাসাবাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে—অর্থাৎ গড়ে প্রতি দুই মিনিটে একটি করে চুরি। গাড়ি ভাড়া নিলেও ঝুঁকি আছে, কারণ সারা দেশে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৬৪ হাজার গাড়ি চুরি হয়। ভিড় এলাকায় পকেটমারের ব্যাপারেও পর্যটকদের সতর্ক থাকা উচিত, কারণ যুক্তরাজ্যে বছরে প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার এমন ঘটনা ঘটে।”

তালিকার পরের অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স, যেখানে বছরে প্রায় ৬৩ হাজার ছিনতাইয়ের ঘটনা রেকর্ড করা হয়, “যার অনেকগুলো ঘটে বিলাসবহুল হোটেল ও অভিজাত শপিং এলাকার আশপাশে।” প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, “দামি ডিজাইনার ব্যাগ বা গয়না নিয়ে হাঁটাচলা করাও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ ফ্রান্সে বছরে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার পকেটমারের ঘটনা ঘটে।”