বর্ষাকাল হলেও টানা চার দিনের ছুটিকে ঘিরে দেশের প্রধান সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে আবারও প্রাণ ফিরেছে পর্যটন খাতে। তারকা হোটেল থেকে শুরু করে সাধারণ আবাসিক হোটেল পর্যন্ত অধিকাংশ কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছুটির এই সময়ে পর্যটকের চাপ বাড়লে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কোরবানির ঈদের পর টানা বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কমে গেলেও সাম্প্রতিক ছুটিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি বদলেছে। বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত অধিকাংশ হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউসে আগাম বুকিং হয়েছে। বৃহস্পতিবার ছুটি নিয়ে অনেকেই সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে চার দিনের অবকাশ কাটাতে কক্সবাজারে যাচ্ছেন।
তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস লিমিটেডের বিপণন ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ নুর সোমেল বলেন, বর্ষার অনিশ্চিত আবহাওয়া সত্ত্বেও ৫, ৬ ও ৭ আগস্টের জন্য তারকা হোটেলগুলোর প্রায় সব কক্ষ আগেই সংরক্ষিত হয়েছে। নন-তারকা হোটেলগুলোর বুকিংও সন্তোষজনক।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট ক্লাব ও ট্যুরস অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. রেজাউল করিম বলেন, সচেতন ভ্রমণকারীরা ভোগান্তি এড়াতে আগে থেকেই আবাসনের ব্যবস্থা করছেন। এতে বর্ষাকালেও পর্যটন ব্যবসা চাঙা হওয়ার ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলছে। পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাই প্রস্তুত।
হোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার জানান, বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত করে সারা বছর কক্সবাজারকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় রাখাই তাদের লক্ষ্য।
পর্যটকদের ভিড় সামাল দিতে জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং লাইফগার্ড সদস্যরা বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছেন। সি-সেইফ লাইফগার্ডের সিনিয়র কর্মী জয়নাল আবেদীন ভুট্টো বলেন, বর্ষায় সমুদ্র উত্তাল থাকায় পর্যটকদের সতর্ক থাকতে হবে। লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলীসহ প্রধান সৈকত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে।
জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক প্রচার, মাইকিং এবং উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। কোনো ধরনের ঝুঁকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আজমল হোসেন জানান, কলাতলী, সুগন্ধা, লাবণী, ইনানী ও হিমছড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় দুই শিফটে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
হোটেল-মোটেল অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা রিয়াদ ইফতেখার জানান, কক্সবাজার শহর ও আশপাশের পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউসে প্রায় দেড় লাখ পর্যটকের রাতযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে অনেক আবাসন প্রতিষ্ঠান কক্ষ ভাড়ায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে, যা বর্ষাকালে ভ্রমণকে আরও সাশ্রয়ী করেছে।
জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা, সেবা এবং হয়রানি রোধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে থাকবে। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
যা জানা জরুরি
টানা চার দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের চাপ বাড়ার সম্ভাবনা।
অধিকাংশ তারকা হোটেলের কক্ষ আগেই বুকিং সম্পন্ন।
প্রায় ৫০০টির বেশি আবাসন প্রতিষ্ঠানে দেড় লাখ পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা।
অনেক হোটেলে কক্ষ ভাড়ায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়।
সৈকতে নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, লাইফগার্ড ও জেলা প্রশাসনের বিশেষ নজরদারি।