নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ধর্মীয় বৈচিত্র্যের তালিকায় শীর্ষে থাকলেও, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ নিচের দিকে অবস্থান করছে। এই গবেষণাটি পিউ গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালনায় এবং ২০২০ সালের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি।
গবেষণাটি বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে কতটা সমানভাবে বিতরণ ঘটেছে তা পরিমাপ করার চেষ্টা করেছে, যা সমাজের ধর্মীয় প্রভাবের গভীরতা তুলে ধরেছে।
ধর্মীয় সম্প্রদায়ের শ্রেণীবিভাগ
গবেষকরা ২০১টি দেশ ও অঞ্চল পর্যালোচনা করে সাতটি বিস্তৃত ধর্মীয় শ্রেণীতে মানুষকে ভাগ করেছেন: খ্রিস্টান, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, ইহুদি, অন্যান্য ধর্মের অনুসারী এবং ধর্মহীন। প্রতিটি দেশকে ০ থেকে ১০ এর মধ্যে একটি স্কোর দেওয়া হয়েছে, যেখানে উচ্চ স্কোর মানে হল ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলি জনসংখ্যার মধ্যে সমানভাবে ছড়িয়ে রয়েছে।
সিঙ্গাপুরের নেতৃত্ব
বিশ্বের সবচেয়ে ধর্মীয়ভাবে বৈচিত্র্যময় দেশ হিসেবে সিঙ্গাপুর আবির্ভূত হয়েছে, যা ৯.৩ স্কোর অর্জন করেছে। যদিও কোন দেশই নিখুঁত ১০ পেতে পারেনি, সিঙ্গাপুর প্রধান ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলির মধ্যে একটি সমান ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। সেখানে বৌদ্ধদের সংখ্যা ৩১ শতাংশ, ধর্মীয়ভাবে অঙ্গীকারহীন ২০ শতাংশ, খ্রিস্টান ১৯ শতাংশ, মুসলিম ১৬ শতাংশ, হিন্দু ৫ শতাংশ এবং অন্যান্য ৯ শতাংশ।
বৈচিত্র্যের শীর্ষ স্থান
সুরিনাম দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, এবং তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, মরিশাস, গিনি-বিসাউ, টোগো ও বেনিনও শীর্ষ দশে স্থান করে নিয়েছে। ইউরোপের মধ্যে একমাত্র ফ্রান্স এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে।
কম বৈচিত্র্যের দেশ
অন্যদিকে, ইয়েমেন, আফগানিস্তান এবং সোমালিয়া সবচেয়ে কম বৈচিত্র্যময় দেশের মধ্যে স্থান পেয়েছে, যেখানে মুসলিমরা জনসংখ্যার ৯৯ শতাংশ বা তার বেশি।
জনবহুল দেশের বৈচিত্র্য
বিশ্বের ১০টি সবচেয়ে জনবহুল দেশের দিকে তাকালে, যুক্তরাষ্ট্র (৩২) ধর্মীয় বৈচিত্র্যে প্রথম স্থানে রয়েছে, এরপর নাইজেরিয়া (৩৪), রাশিয়া (৪৭), ভারত (৭৮) এবং ব্রাজিল (৮৩) অবস্থান করছে। বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান বৃহৎ জাতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম বৈচিত্র্যময়, যথাক্রমে ১৩৩ তম এবং ১৬৫ তম স্থানে। বাংলাদেশে মুসলিমদের সংখ্যা প্রায় ৯১ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ৯৭ শতাংশ।
বৈচিত্র্যের অঞ্চলভিত্তিক পর্যালোচনা
মোটের উপর, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বৈশ্বিক অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ বৈচিত্র্যের স্তর রেকর্ড করেছে, অপরদিকে মধ্যপ্রাচ্য-উত্তর আফ্রিকা অঞ্চল সবচেয়ে কম বৈচিত্র্যময়। এই গবেষণা আমাদের ধর্মীয় বৈচিত্র্যের মধ্য দিয়ে সমাজের মূলধারা এবং সংস্কৃতির গভীরতা বুঝতে সাহায্য করে।