জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে নেমে এসেছে অস্বাভাবিক স্থবিরতা। ভরা মৌসুমেও বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে পর্যটকের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় হোটেল-মোটেল, পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসা থেকে শুরু করে পুরো পর্যটননির্ভর অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে কয়েক সপ্তাহেই শত কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। ভোটের আগে ও পরে কয়েকদিন ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস, পিকআপ ও ট্রাক চলাচল সীমিত থাকায় অনেক পর্যটক ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করেন। এতে পর্যটন মৌসুমের মাঝামাঝি সময়েই কক্সবাজারে পর্যটক সমাগম হঠাৎ কমে যায়।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল ও মোটেলের অধিকাংশেই কক্ষ বুকিং ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। কয়েকটি তারকা হোটেলে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বুকিং থাকলেও সাধারণ আবাসিক হোটেলগুলো প্রায় ফাঁকা পড়ে আছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বছরের এই সময়টিই সাধারণত সবচেয়ে ব্যস্ত থাকে। অথচ এবার দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র।

হোটেল মালিকদের ভাষ্য, নির্বাচন উপলক্ষে কর্মচারীদের একটি অংশ ছুটিতে চলে গেছেন। তার সঙ্গে পর্যটক কমে যাওয়ায় পরিচালন ব্যয় মেটানোই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে সেবা চালু রেখেছে।

সৈকতকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। ঝালমুড়ি, চটপটি, আচার ও ঝিনুক বিক্রেতারা জানান, পর্যটক না থাকায় বিক্রি প্রায় বন্ধ। আগে যেখানে প্রতিদিন হাজার টাকার বেশি আয় হতো, এখন সেখানে কয়েকশ টাকাও হচ্ছে না। অনেকের কাঁচামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

সৈকতে ঘুরতে আসা অল্পসংখ্যক পর্যটক বলছেন, ভিড় কম থাকায় পরিবেশ শান্ত লাগছে, তবে শহরের স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্য নেই। বিনোদনকেন্দ্র, রেস্টুরেন্ট ও দোকানপাটেও আগের মতো কর্মব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে না।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, সামনে রমজান মাস শুরু হলে পর্যটক সংখ্যা আরও কমে যেতে পারে। এতে লোকসানের পরিমাণ বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। তারা দ্রুত স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা চালু এবং পর্যটন পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের সময় মানুষ নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করায় পর্যটক কম ছিল। খুব শিগগির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে পর্যটক সমাগম আবার বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।