চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এমন একটি পর্যটন গন্তব্য রয়েছে, যেখানে একই ভ্রমণে পাহাড়, সমুদ্র, প্রকৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের দেখা মেলে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট উঁচু চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রনাথ মন্দির। পাহাড়ি পথ ধরে চূড়ায় উঠলে একদিকে সবুজ পাহাড়, অন্যদিকে দূরে বঙ্গোপসাগরের বিস্তৃত জলরাশি দেখা যায়।
সীতাকুণ্ড বাজার থেকে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাদদেশের দূরত্ব প্রায় চার কিলোমিটার। পাদদেশ থেকে চূড়ায় যেতে হয় হেঁটে। ফলে ধর্মীয় তীর্থযাত্রীদের পাশাপাশি পাহাড়ে হাঁটা ও ট্রেকিংপ্রেমীদের কাছেও এটি আকর্ষণীয় গন্তব্য।
ধর্মীয় ঐতিহ্য ও প্রকৃতির মেলবন্ধন
চন্দ্রনাথ মন্দির হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর পূজার সময় দেশ-বিদেশ থেকে বহু তীর্থযাত্রী এখানে আসেন। ফাল্গুন মাসের শিব চতুর্দশীকে কেন্দ্র করে চন্দ্রনাথ পাহাড় এলাকায় বড় ধর্মীয় আয়োজন ও মেলা বসে।
তবে চন্দ্রনাথের আকর্ষণ শুধু ধর্মীয় গুরুত্বে সীমাবদ্ধ নয়। চূড়ার দিকে উঠতে উঠতে দেখা যায় সবুজ পাহাড় ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে দূর থেকে বঙ্গোপসাগরের দৃশ্যও উপভোগ করা যায়। পথে রয়েছে বিরূপাক্ষ মন্দির, যা এই পাহাড়ের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় স্থাপনা।
ওঠার পথে সতর্কতা জরুরি
চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ওঠার জন্য দুটি পথ রয়েছে। একটি পথে সিঁড়ি বেশি, অন্যটি তুলনামূলকভাবে পাহাড়ি ও প্রাকৃতিক। ভ্রমণকারীদের অনেকে ওঠার সময় পাহাড়ি পথ এবং নামার সময় সিঁড়ির পথ ব্যবহার করেন।
বর্ষাকালে পাথর ও সিঁড়ি পিচ্ছিল হয়ে যেতে পারে। তাই আরামদায়ক ও ভালো গ্রিপযুক্ত জুতা পরা জরুরি। সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি রাখা এবং ধীরে হাঁটাও গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ে ওঠানামায় কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কার্যক্রমে না গিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা উচিত। বিশেষ করে অনুমোদনহীন র্যাপেলিং বা দড়ি বেয়ে নামার মতো কার্যক্রম এড়িয়ে চলতে হবে।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা বা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাস কিংবা ট্রেনে সীতাকুণ্ডে যাওয়া যায়। সীতাকুণ্ড বাজার থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাদদেশে পৌঁছানো যায়। এরপর শুরু হবে মূল হাঁটার পথ।
এক দিনের ভ্রমণ পরিকল্পনা করলে সকালে পাহাড়ে ওঠা সুবিধাজনক। চন্দ্রনাথ থেকে ফিরে সময় থাকলে সীতাকুণ্ডের অন্যান্য আকর্ষণ, যেমন ঝরনা, ইকোপার্ক ও সমুদ্রসৈকত ঘুরে দেখা যেতে পারে।