একটি যাত্রীবাহী বিমান গন্তব্যে পৌঁছানোর পর কি দিনের বাকি সময় মাটিতে পড়ে থাকে? বাস্তবে অনেক বিমানই দিনে একাধিকবার আকাশে ওঠে। বিশেষ করে স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহৃত উড়োজাহাজগুলোকে একই দিনে বারবার কাজে লাগানো হয়। তবে একটি বিমান দিনে কতবার উড়তে পারবে, তা নির্ভর করে বিমানের ধরন, রুটের দূরত্ব, বিমানবন্দরে অবস্থানের সময় এবং সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সময়সূচির ওপর।
বিমানের ব্যবহার কতটা হচ্ছে, তা বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হলো দৈনিক ব্যবহারমাত্রা। অর্থাৎ একটি বিমান দিনে গড়ে কত ঘণ্টা উড্ডয়নে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, যাত্রীবাহী বিমানগুলোর দৈনিক ব্যবহার গড়ে প্রায় ৮ দশমিক ৫ ঘণ্টা। তবে বিমানভেদে এই সময়ের পার্থক্য রয়েছে।
স্বল্প দূরত্বে দিনে একাধিক ফ্লাইট
স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বের রুটে চলাচলকারী সরু দেহের বিমান, যেমন এয়ারবাস এ৩২০ বা বোয়িং ৭৩৭, একই দিনে একাধিক ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারে। ইউরোকন্ট্রোলের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের বিমান দিনে প্রায় ছয়টি পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারে।
এর কারণ, একই বিমানকে একাধিক স্বল্প দূরত্বের রুটে ব্যবহার করা যায়। একটি শহর থেকে অন্য শহরে গিয়ে ফিরে আসার পরও বিমানটি নতুন যাত্রী নিয়ে আবার অন্য গন্তব্যে উড়ে যেতে পারে। ফলে দিনের বড় একটি অংশ বিমানটি কাজে লাগানো সম্ভব হয়।
দীর্ঘপথের বিমানের হিসাব আলাদা
বড় প্রশস্ত দেহের বিমান সাধারণত দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহৃত হয়। এসব ফ্লাইটে কয়েক ঘণ্টা আকাশে থাকার পাশাপাশি যাত্রী ওঠানামা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জ্বালানি নেওয়া ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় লাগে।
ইউরোকন্ট্রোলের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘপথের একটি প্রশস্ত দেহের বিমান সাধারণত দিনে একটি যাওয়া ও একটি ফেরার ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারে।
বিমান নামার পরও ব্যস্ততা থাকে
অবতরণের পর পরবর্তী ফ্লাইটের জন্য বিমানকে প্রস্তুত করতে যাত্রী নামানো, নতুন যাত্রী ওঠানো, লাগেজ ওঠানো-নামানো, কেবিন পরিষ্কার, জ্বালানি নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরিদর্শনের মতো কাজ করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াকে বলা হয় টার্নঅ্যারাউন্ড বা পুনঃপ্রস্তুতি।
বিমান যত দ্রুত ও নিরাপদে পরবর্তী ফ্লাইটের জন্য প্রস্তুত করা যায়, বিমান সংস্থা তত বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারে। তাই আকাশে উড়ার সময়ের পাশাপাশি মাটিতে থাকা সময়ও বিমান পরিচালনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাহলে দিনে সর্বোচ্চ কতবার?
এর কোনো নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সংখ্যা নেই। স্বল্প দূরত্বের রুটে দ্রুত পুনঃপ্রস্তুতি ও উপযোগী সময়সূচি থাকলে একটি বিমান দিনে পাঁচ থেকে ছয়টি পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারে। আবার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহৃত বড় বিমান দিনে তুলনামূলক কম ফ্লাইট করে।
এ ছাড়া আবহাওয়া, যাত্রী চাহিদা, বিমানবন্দরের ব্যস্ততা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সময়সূচির পরিবর্তনের কারণেও একই বিমানের দৈনিক ফ্লাইট সংখ্যা কমবেশি হতে পারে।
অর্থাৎ একটি বিমান দিনে কতবার আকাশে উঠবে, তার নির্দিষ্ট উত্তর নেই। বিমানের ধরন, রুটের দৈর্ঘ্য এবং পরিচালন পরিকল্পনাই মূলত নির্ধারণ করে একটি উড়োজাহাজ দিনে কতবার যাত্রী নিয়ে আকাশে উঠবে।