গ্রিনল্যান্ড কেনার উদ্যোগ থেকে শুরু হওয়া ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এখন পর্যটনেও তার ছায়া ফেলেছে। সাম্প্রতিক এক ইউগভ জরিপে দেখা গেছে, পশ্চিম ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মানুষের মনোভাব গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নেতিবাচক অবস্থানে পৌঁছেছে। ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন ও যুক্তরাজ্যসহ বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এখন আমেরিকাকে অনুকূল দৃষ্টিতে দেখছে না। জরিপটি জানাচ্ছে, ২০১৬ সালে ট্র্যাকিং শুরুর পর থেকে এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি পশ্চিম ইউরোপে সবচেয়ে নিচে।

তবে এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেও ডেনমার্ক মার্কিন পর্যটকদের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছে। দেশটির জাতীয় পর্যটন সংস্থা ভিজিটডেনমার্ক প্রায় ৬ হাজার মার্কিন ট্র্যাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটরকে বিশেষ ই-মেইল পাঠিয়ে জানিয়েছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমেরিকান পর্যটকদের জন্য ডেনমার্ক সম্পূর্ণ নিরাপদ ও উন্মুক্ত। ভিজিটডেনমার্কের মার্কিন মার্কেটিং ম্যানেজার মেট্টে এইলস্কভ হ্যানসেন নিশ্চিত করেছেন যে বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বুকিং বা আগ্রহে কোনো উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায়নি।

অন্যদিকে ইউরোপিয়ান ট্র্যাভেল কমিশন ও ইউরেইলের যৌথ গবেষণা 'লং-হল ট্র্যাভেল ব্যারোমিটার ২০২৬' একটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। বিশ্বের আটটি প্রধান পর্যটন বাজারে পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, দীর্ঘ পথের ভ্রমণে আগ্রহীদের হার ২০২৫ সালের তুলনায় ৫ শতাংশ কমে ৫৯ শতাংশে নেমেছে। বিশেষভাবে আমেরিকানদের মধ্যে মাত্র ৩২ শতাংশ ইউরোপে লং-হল ট্রিপের পরিকল্পনা করছেন, যেখানে বৈশ্বিক গড় ৪২ শতাংশ।

গবেষণা বলছে, এই পিছিয়ে পড়ার মূল কারণ রাজনীতি নয়, বরং সময় ও অর্থের সংকট। যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধির চাপে অনেক পরিবারই দূরের দেশে ছুটি কাটানোর চিন্তা থেকে সরে আসছে। পাশাপাশি ইউরোপে অতিরিক্ত পর্যটনের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও মাত্র ৫ শতাংশ পর্যটক বলেছেন তারা ভিড়ের কারণে গন্তব্য পরিবর্তন করবেন।

ইউরোপিয়ান ট্র্যাভেল কমিশনের সভাপতি মিগেল সান্থ বলেন, ২০২৬ সালে দীর্ঘ পথের ভ্রমণে মানুষ আরও সতর্ক ও পরিকল্পিত আচরণ করছে। তবে আশার বিষয় হলো, বৈশ্বিক নিরাপত্তার দিক থেকে ইউরোপ এখনও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মূল্যায়নে ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে ৫১ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন।