বান্দরবানের রুমার দুর্গম পাহাড়ি পর্যটন গন্তব্যগুলোতে ভ্রমণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় পর্যটকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বগালেক, কেওক্রাডং ও সুংসাং পাড়ায় যাতায়াতে জিপ ভাড়া, গাইডের পারিশ্রমিক এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেক ভ্রমণপিপাসু।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রুমা ভ্রমণে অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পর্যটকদের অনেকে। তাদের অভিযোগ, যাতায়াত ও গাইড খাতে বাড়তি খরচ দুর্গম এসব জনপ্রিয় গন্তব্যে ভ্রমণকে অনেকের জন্য ব্যয়বহুল করে তুলছে।

রুমা বাজার থেকে বগালেকের দূরত্ব প্রায় ১৮ কিলোমিটার। পাহাড়ি, ভাঙা ও উঁচুনিচু সড়কে চাঁদের গাড়ি বা জিপে সেখানে যেতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। রুমা বাজার থেকে বগালেক হয়ে কেওক্রাডংয়ের দূরত্ব প্রায় ৩০ থেকে ৩২ কিলোমিটার। কেওক্রাডং থেকে পাসিং পাড়া হয়ে সুংসাং পাড়ার দূরত্ব প্রায় ৩৯ থেকে ৪০ কিলোমিটার।

রুমা জিপ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কার্তিক কর্মকার বলেন, পাহাড়ি দুর্গম সড়ক, জ্বালানি ব্যয় এবং গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বিবেচনায় ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে প্রতিটি স্পটের ভাড়া ৫০০ টাকা করে কমানো হয়েছে।

বর্তমানে রুমা বাজার থেকে বগালেক যাওয়া-আসার জিপ ভাড়া ৪ হাজার টাকা, কেওক্রাডংয়ের জন্য সাড়ে ৬ হাজার টাকা এবং সুংসাং পাড়ার জন্য ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যটক গাড়ি নিয়ে কোনো স্পটে রাতে অবস্থান করলে অতিরিক্ত ১ হাজার টাকা দিতে হয় বলেও জানান তিনি।

কার্তিক কর্মকারের দাবি, পাহাড়ি পথে অধিকাংশ সময় গাড়ি কম গতির গিয়ারে চালাতে হয়। এতে জ্বালানি খরচ বাড়ার পাশাপাশি দুর্গম সড়কে গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও তুলনামূলক বেশি।

তবে এসব ভাড়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পর্যটকদের অনেকে। তাদের দাবি, ভাড়ার কাঠামো আরও স্বচ্ছ ও পর্যটকবান্ধব হওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্টরাও মনে করছেন, দুর্গম এলাকার বাস্তব ব্যয় বিবেচনার পাশাপাশি পর্যটকদের সামর্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

গাইডের পারিশ্রমিক নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। রুমা বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ময়ূর বলেন, একজন পর্যটক সকালে গাইড নিলে পরদিন সকাল ৮টা পার হওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে দুই দিনের পারিশ্রমিক দিতে হয়। কমসংখ্যক পর্যটক হলে গাইডের জন্য আলাদা মোটরসাইকেল ভাড়ার প্রয়োজন হওয়ায় ব্যয় আরও বেড়ে যায়।

এদিকে জিপ মালিক সমিতির ভাড়ার তালিকা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হয়েছে বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা নাকচ করেছেন রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিজা আক্তার বিথি।

তিনি বলেন, জিপ মালিক সমিতির প্রকাশিত ভাড়ার তালিকা উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দেওয়া হয়নি। পর্যটকদের অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে সমস্যা হলে প্রশাসন বিষয়টি তদারকি করবে।