গাজীপুরের কালিয়াকৈরের ঐতিহ্যবাহী মকশ বিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বিস্তীর্ণ জলাভূমি ও নৌভ্রমণের সুযোগ নিয়ে একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নেওয়া হলে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার ভ্রমণপিপাসু মানুষের জন্য এটি হতে পারে আকর্ষণীয় এক দিনের ভ্রমণকেন্দ্র।
মকশ বিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে। বিশেষ করে বর্ষায় বিস্তীর্ণ জলরাশি ও নৌভ্রমণ, শরতে কাশফুল এবং শীতকালে পাখির বিচরণ এ এলাকার পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে বিলের পাড়ে ভ্রমণপিপাসু মানুষের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।
তবে এ সম্ভাবনাকে টেকসই পর্যটনে রূপ দিতে হলে বিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয়দের দাবি, বিলের সীমানা নির্ধারণ, দখল ও ভরাট বন্ধ এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, মকশ বিলকে কৃত্রিম বিনোদনকেন্দ্রের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হলে এর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব হবে। এজন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় নিরাপদ নৌভ্রমণ, নৌঘাট, পর্যটকদের বসার স্থান, বিশুদ্ধ পানি, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, নামাজের স্থান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেতে পারে।
নিরাপদ পর্যটনের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। ২০২৫ সালে মকশ বিলে নৌকাডুবির ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছিল। তাই পর্যটন কার্যক্রম সম্প্রসারণের আগে নিরাপদ নৌযান, আবহাওয়ার সতর্কতা, পর্যাপ্ত জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম এবং জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্থানীয় জেলে, নৌকার মাঝি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের পর্যটন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতিও লাভবান হতে পারে। বিলকে ঘিরে স্থানীয় খাবার, পিঠা, হস্তশিল্প ও কৃষিপণ্যের বাজার গড়ে তোলার পাশাপাশি নৌকাবাইচ ও লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম ফকরুল হোসাইন বলেন, মকশ বিলকে ঘিরে পর্যটনকেন্দ্র করার পরিকল্পনা রয়েছে উপজেলা প্রশাসনের। এজন্য স্থান নির্বাচন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রতি মাসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও পরিবেশ ও সামাজিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আহমাদ উল্লাহ বলেন, মকশ বিল কেবল একটি জলাভূমি নয়, এটি কালিয়াকৈরের প্রাকৃতিক ফুসফুস ও পরিবেশগত ভারসাম্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সময়ের দাবি হলেও উন্নয়নের নামে এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও প্রতিবেশব্যবস্থা যেন নষ্ট না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।