বর্তমানে কোনো গন্তব্যে যাওয়ার আগে গবেষণা না করে বের হওয়াটা প্রায় অসম্ভব। এমনকি আপনি নিজে কিছু না খুঁজলেও টিকটক বা ইনস্টাগ্রাম রিলসের অ্যালগরিদম আপনার সামনে সেই জায়গার ছবি ও ভিডিও তুলে ধরতে পারে।
দিকনির্দেশনা, গণপরিবহন বা কোথায় কী পাওয়া যাবে— এসব তথ্য হাতের মুঠোয় থাকা অবশ্যই সুবিধাজনক। তবে অতিরিক্ত তথ্য ভ্রমণের সেই স্বতঃস্ফূর্ততা ও চমক অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
‘হিন্ট অ্যাপ’-এর জরিপ তুলে ধরে ইউরো নিউজের এক খবরে বলা হয়েছে, ৬৮ শতাংশ ভ্রমণকারী এমন জায়গায় গিয়ে মনে করেছেন, সেখানে তারা আগে কখনো না গেলেও জায়গাটি পরিচিত মনে হচ্ছে। কারণ, ভ্রমণের আগে তারা অনলাইনে ওই গন্তব্যের প্রচুর কনটেন্ট দেখেছেন।
ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও লাতিন আমেরিকার ১০ হাজার ৬৮৪ জন প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে করা জরিপে আরও দেখা গেছে, ৭৪ শতাংশ পর্যটক এতটাই বিস্তারিতভাবে গন্তব্য সম্পর্কে গবেষণা করেন যে সেখানে পৌঁছানোর পর সত্যিকারের চমকের সুযোগ খুব কম থাকে। 
আর ৬৪ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগে দেখা ছবি ও ভিডিওর কারণে বিভিন্ন স্থাপনা ও দর্শনীয় স্থান সহজেই চিনতে পারেন।
তাহলে ভ্রমণের সেই হারানো চমক ফিরিয়ে আনার উপায় কী?
এক্ষেত্রে গুগল বা জেনারেটিভ এআইয়ের বদলে পুরোনো ধাঁচের গাইডবুক ব্যবহার, হোটেলে থাকলে কনসিয়ার্জকে আশপাশের জায়গা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা নিজের পায়ে ঘুরে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 
তারা বলেছেন, চারপাশে তাকান—কখনো কখনো সবচেয়ে দারুণ অভিজ্ঞতাগুলোই আসে, যখন আপনি সেগুলো খুঁজছেন না।