বাংলাদেশে এমন একটি জায়গা আছে, যেখানে কয়েক মিনিটের হাঁটাপথেই ঘুরে দেখা যায় তিন জেলা। বরগুনা, পিরোজপুর ও ঝালকাঠির সীমান্ত এসে মিলেছে হলতা নদীর কাছে। ফলে স্থানীয়দের পাশাপাশি ভ্রমণপিপাসুদের কাছেও জায়গাটি হয়ে উঠেছে ব্যতিক্রমী এক আকর্ষণ।

বরগুনার বামনা উপজেলার বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুরা, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের দেবত্র এবং ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার পাতাকাটা ইউনিয়নের জোরখালি গ্রামের সীমান্ত হলতা নদীর বুকে এসে মিলেছে। নদীটি তিন এলাকার মানুষকে একই সঙ্গে বিভক্ত ও সংযুক্ত করেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, লক্ষ্মীপুরা খালের সেতু পার হলেই পিরোজপুরের দাউদখালী ইউনিয়নে পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে হলতা নদীর পাড় ধরে প্রায় দুই মিনিট হাঁটলেই ঝালকাঠির জোরখালি গ্রাম। অর্থাৎ কয়েক মিনিটের পথেই তিন জেলার সীমানা ঘুরে দেখা সম্ভব।

এলাকাটির বিশেষত্ব শুধু ভৌগোলিক অবস্থানে নয়। তিন জেলার মানুষ এখানে নিয়মিত যাতায়াত করেন, বাজার করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ রাখেন। একই সঙ্গে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও তিন জেলার শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে পড়াশোনা করে।

হলতা নদীর তীরে রয়েছে রাজারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রাজারহাট শহীদ বাচ্চু মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয় দুটির আশপাশে তিন জেলার সীমানা কাছাকাছি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নিয়মিত যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান।

বরগুনার বাসিন্দা মিলন মোর্শেদ বলেন, “আমরা চাইলে পাঁচ মিনিটে তিনটি জেলা ঘুরতে পারি। সন্ধ্যার পরে আড্ডা দিতে আমাদের জেলা থেকে অন্য জেলায় চলে যাই। আমাদের জেলার ছেলে-মেয়েরা পাশের জেলায় গিয়ে পড়ালেখা করে।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী মাহবুব মোল্লা বলেন, “আমরা মিনিটের ব্যবধানে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাই। আমাদের কখনো মনে হয় না যে আমরা অন্য জেলায় এসেছি। আমরা সবাই মিলেমিশে চলি।”

রাজারহাট শহীদ বাচ্চু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়া ইসলাম জানান, তাদের বিদ্যালয়ে তিন জেলার শিক্ষার্থী রয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই স্থান দেখতে আসেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহির খান বলেন, তিন জেলার ও তিন ইউনিয়নের শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনা করে। ভিন্ন সংস্কৃতির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে পড়াশোনার মাধ্যমে পারস্পরিক পরিচয় ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, হলতা নদীর তীরের এই ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যকে পরিকল্পিতভাবে পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরা হলে এলাকাটি স্থানীয় ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য আরও পরিচিত হয়ে উঠতে পারে।