সব রাস্তা রোমে যায়— ইতিহাসের বহুল ব্যবহৃত প্রবাদটি পুরোপুরি সত্য নয় বলে নতুন এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে।
রোমান সাম্রাজ্যের বিস্তৃত সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে করা গবেষণায় দেখা গেছে, রোম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হলেও সাম্রাজ্যের সব সড়ক বা স্থলপথের যোগাযোগের কেন্দ্র ছিল না।
ফক্স নিউজের খবরে বলা হয়েছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর গবেষণা প্রতিবেদনটি ‘ন্যাচার কমিউনিকেশনস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা জুড়ে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার মাইল রোমান সড়কের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকরা বিভিন্ন উৎসের তথ্য একত্র করে রোমান সাম্রাজ্যের সড়ক নেটওয়ার্কের একটি নতুন মানচিত্রও তৈরি করেছেন।
গবেষকদলের প্রধান ডেনমার্কের আরহুস বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসিক্যাল প্রত্নতত্ত্ববিদ টম ব্রুগম্যানস ও তার সহকর্মীরা দেখতে পান, রোম সাম্রাজ্যের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এককভাবে কোনো কেন্দ্রীয় শহর ছিল না। বিভিন্ন প্রদেশের রাজধানীও স্থলপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।
বিশেষ করে চতুর্থ শতকে সম্রাট কনস্টান্টিন কনস্টান্টিনোপলকে সাম্রাজ্যের রাজধানী করার পর শহরটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্রে পরিণত হয়। বর্তমান তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত এই শহরটি ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যবর্তী অবস্থানের কারণে সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে স্থল যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
গবেষক ব্রুগম্যানস বলেন, ‘সব রাস্তা রোমে যায়’ প্রবাদটি মধ্যযুগে তৈরি এবং আক্ষরিক অর্থে নেওয়া উচিত নয়। এমনকি রোমান ব্রিটেনের কোনো সড়কই সরাসরি রোমে পৌঁছাত না। তার ভাষায়, গবেষণাটি প্রবাদটির প্রচলিত ধারণাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তবে গবেষণায় রোমের গুরুত্বকে খাটো করা হয়নি। নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ক্লাসিকসের অধ্যাপক টাকো টেরপস্ট্রা, যিনি গবেষণায় যুক্ত ছিলেন না।
তিনি বলেন, কনস্টান্টিনোপল চতুর্থ শতকের আগে ছিল বাইজান্টিয়াম নামের একটি ছোট মাছধরা শহর। তাই কোন সময়ের কথা বলা হচ্ছে, সেটি বিবেচনা করা জরুরি।
রোম বহু শতাব্দী ধরে রাজনৈতিক, সামরিক ও আদর্শিক ক্ষমতার কেন্দ্র ছিল। রোমান সড়ক নির্মাণের পেছনে শুরুতে সামরিক প্রয়োজনই ছিল প্রধান। বিজিত অঞ্চলে দ্রুত সৈন্য পাঠানোর জন্য এসব সড়ক তৈরি করা হতো। পরে এগুলো বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।