সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভ্রমণবিষয়ক ফোরামে একটি অদ্ভুত প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

হ্যাকারদের হাত থেকে তথ্য রক্ষার আশঙ্কায় কেউ কেউ বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে পাসপোর্ট অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মুড়িয়ে রাখছেন। এতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে পাসপোর্ট ব্যবহারের সময় অপ্রয়োজনীয় ঝামেলাও তৈরি হচ্ছে। খবর: ইউরো নিউজ।

এই প্রবণতার পেছনে রয়েছে পাসপোর্টে থাকা ‘আরএফআইডি’ চিপ নিয়ে উদ্বেগ। আধুনিক জার্মান পাসপোর্টে থাকা এই ওয়্যারলেস চিপ সীমান্তে দ্রুত ও নিরাপদ পরিচয় যাচাইয়ে ব্যবহৃত হয়। এতে ডিজিটাল পাসপোর্ট ছবির পাশাপাশি নাম, জন্মস্থান, লিঙ্গ, চোখের রং, উচ্চতা ও বসবাসের স্থানসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য থাকে। পাসপোর্ট তৈরির সময় নেওয়া দুটি আঙুলের ছাপও চিপে সংরক্ষিত থাকে।
তবে অপরাধীরা দূর থেকে হাঁটতে হাঁটতে এই তথ্য চুরি করে নিতে পারে কি না, সেটিই প্রশ্ন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাভাবিক ভ্রমণ পরিস্থিতিতে এ ধরনের অননুমোদিত তথ্য সংগ্রহের আশঙ্কা অত্যন্ত কম। কারণ চিপটি খুব স্বল্প দূরত্বে কাজ করে। তথ্য পড়তে সক্ষম রিডারকে পাসপোর্টের একেবারে কাছাকাছি থাকতে হবে, প্রায় পাসপোর্টের গায়ে লাগানো অবস্থায়।

অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল রেডিও তরঙ্গ ঠেকাতে পারে বলে এটিকে অস্থায়ী সুরক্ষা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ ভ্রমণের ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যবস্থা মূলত অপ্রয়োজনীয়। বরং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের সময় বারবার পাসপোর্ট খোলা ও ফয়েল খুলে ফেলার কারণে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।
অর্থাৎ, ফয়েলে পাসপোর্ট মুড়িয়ে রাখলে বাস্তবে খুব বেশি বাড়তি নিরাপত্তা পাওয়া যায় না; বরং এটি নিরাপত্তার একটি ধারণা তৈরি করতে পারে।

জার্মানিতে পাসপোর্টের তথ্য সুরক্ষিত রাখার জন্য কঠোর নিয়ম রয়েছে। চিপে থাকা তথ্যের কোনো কেন্দ্রীয় সরকারি ডেটাবেস নেই। কর্তৃপক্ষের পাসপোর্ট নিবন্ধনেও ই-পাসপোর্ট চালুর আগের মতো একই তথ্য সংরক্ষিত থাকে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাসপোর্ট তৈরির কাজে ব্যবহৃত আঙুলের ছাপ পাসপোর্ট সংগ্রহ করার পর কর্তৃপক্ষ স্থায়ীভাবে মুছে ফেলে। ফলে সেগুলো সরকারি কোনো কেন্দ্রীয় ডেটাবেসে সংরক্ষিত থাকে না।