এই সপ্তাহের ভ্রমণজগতে আলোচনায় এসেছে, হোটেলে শব্দদূষণের অভিযোগ সামলানো কেন এত কঠিন, কীভাবে ভুয়া পর্যটন আকর্ষণ পর্যটকদের টানছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল কীভাবে বিশ্বের অন্যতম ‘মুখরিত শহরের’ মর্যাদা আরও পোক্ত করেছে।
‘পুরোনো মনে হয়—এমনভাবে বানাও’
ট্রিপঅ্যাডভাইজারে পাঁচ তারকার বেশ কিছু উজ্জ্বল রিভিউ, সাজানো ভাস্কর্য, কয়েকটি স্তম্ভ আর ছবি তোলার মতো সুন্দর একটি লেক— সবই ছিল। কিন্তু উত্তর ইতালির এই ‘প্রাচীন গ্রিক অ্যাম্ফিথিয়েটারের’ একটি ছোট্ট জিনিসের অভাব ছিল— সত্যতা।
ফ্রাঙ্কো মালোসো উত্তর ইতালিতে ৫৪ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে একটি ‘প্রাচীন’ স্থাপনা তৈরি করেছিলেন। সেখানে ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছ থেকে তিনি নিতেন ৪৬ ডলার। স্টাইরোফোম ব্যবহার করে তৈরি সেই স্থাপনাকে কেন্দ্র করে এক দশকেরও বেশি সময় পর্যটকদের গাইড করার পর শেষ পর্যন্ত জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার হন তিনি।
এই অ্যাম্ফিথিয়েটারে সময় কাটিয়েছেন— এমন দাবি করা হয়েছিল যেসব বিখ্যাত ব্যক্তির নামের ক্ষেত্রে, তাদের একজন ছিলেন জুলিয়েট ক্যাপুলেট। তিনি শেক্সপিয়ারের কালজয়ী নাটক ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েটের’ কাল্পনিক চরিত্র।
জুলিয়েটও যে কাল্পনিক, সেটি অবশ্য ইতালির ভেরোনা শহরকে তার জনপ্রিয়তা কাজে লাগানো থেকে বিরত রাখেনি। নাটকে বর্ণিত বারান্দার আদলে শহরটি একটি বারান্দা তৈরি করেছে। কাল্পনিক চরিত্রকে ঘিরে তৈরি হলেও ‘জুলিয়েট’স হাউস’ এখন ভেরোনার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ।
তবে পরিকল্পিতভাবে তৈরি পর্যটন আকর্ষণ দেখতে যেতে কোনো পর্যটকেরই আপত্তি নেই। চীনে কিছু ‘ফাংগু’—অর্থাৎ কৃত্রিমভাবে তৈরি ঐতিহাসিক গ্রামের আদলে সাজানো স্থান জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি তোলার জন্য অনেকেই এসব জায়গার পটভূমি পছন্দ করেন। বড় শহরের কাছাকাছি হওয়ায় অল্প সময়ে ভ্রমণ করতে চাওয়া পর্যটকদের জন্য এগুলো সুবিধাজনকও।
শুধু মানুষই পর্যটকদের অপ্রামাণিক জায়গার দিকে টেনে নেয় না। গত বছর অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া দ্বীপের কিছু প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণের দিকে পর্যটকদের ভিড় শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেখানে ছিল একটি বড় সমস্যা—ওই উষ্ণ প্রস্রবণগুলোর অস্তিত্বই ছিল না। একটি ভ্রমণ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি ভুল তথ্য বা ‘এআই হ্যালুসিনেশন’ থেকেই এর সূত্রপাত।
নীরবতার খোঁজে
হোটেলের বিলাসিতা মানেই শুধু রেইনফরেস্ট শাওয়ার বা আরামদায়ক বিছানা নয়।
ক্রমেই ব্যস্ত হয়ে ওঠা পৃথিবীতে শান্তি ও নিরিবিলি পরিবেশ পেতে অনেক পর্যটক বাড়তি অর্থ দিতেও প্রস্তুত। তারা ইন্দোনেশিয়ার বাওয়া রিজার্ভের মতো জায়গায় যাচ্ছেন। দক্ষিণ চীন সাগরের একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন দ্বীপে অবস্থিত এই রিসোর্টে আপনার সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী আরেকজন মানুষ হওয়ার চেয়ে সামুদ্রিক কচ্ছপ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
তবে বড় শহরের ক্ষেত্রে বিষয়টি এত সহজ নয়। হোটেলের অতিথিদের অন্যতম বড় অভিযোগ হলো শব্দ। কিন্তু শব্দ পুরোপুরি দূর করা অত্যন্ত কঠিন। কাছের যানবাহন বা নির্মাণকাজের শব্দের পাশাপাশি কিছু অতিথির অতিরিক্ত শব্দও হোটেল কর্তৃপক্ষকে সামলাতে হয়। তারপরও ‘স্লিপ ট্যুরিজম’ বা ঘুম ও বিশ্রামকেন্দ্রিক ভ্রমণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় কিছু হোটেল নতুন নতুন উপায় খুঁজছে।
হোটেলে থাকার সময় অতিথিরা কনসিয়ার্জ বা বেলহপের মতো কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু পর্দার আড়ালে যারা কাজ করেন, তাদের সঙ্গে সাধারণত দেখা হয় না। একটি তথ্যচিত্র সেই চিত্র বদলাতে চায়। এতে এমন একটি সম্প্রদায়ের গল্প তুলে ধরা হয়েছে, যারা আমেরিকার আতিথেয়তা শিল্পকে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ভারতের গুজরাট রাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া হাজার হাজার অভিবাসী, যাদের অনেকের পদবি প্যাটেল, দেশটির বিভিন্ন স্থানে মোটেল ব্যবসা শুরু করেছিলেন। তাদের ও তাদের উত্তরসূরিদের হাতে এখন যুক্তরাষ্ট্রের মোটেল শিল্পের প্রায় ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ‘দ্য প্যাটেল মোটেল স্টোরি’ নামের তথ্যচিত্রটি দেখিয়েছে, কীভাবে একদল অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ‘আমেরিকান ড্রিম’ বাস্তবায়ন করেছিলেন।
বিশ্বের সবচেয়ে ‘হিপ’ পাড়া
পরবর্তী ভ্রমণে কোথায় থাকতে চান? হোটেল, এয়ারবিএনবি কিংবা বন্ধুর বাড়ি—যেখানেই হোক, থাকার জন্য কোন এলাকার পরিবেশ পছন্দ করবেন, তা অনেক পর্যটকই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেন।
এ বছর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান টাইম আউট দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের জংনো ৩-গা-কে বিশ্বের সবচেয়ে ‘কুল’ পাড়া হিসেবে বেছে নিয়েছে। ছোট ছোট দোকান, ক্যাফে এবং ইনস্টাগ্রামে ছবি তোলার উপযোগী দৃশ্যের জন্য এলাকাটিকে তুলে ধরা হয়েছে। সিএনএনের সংবাদদাতা গেজ গোল্ডিং সরেজমিনে এলাকাটি ঘুরে দেখেছেন।
সিউলের বাইরে টাইম আউট বোগোতা, গ্লাসগো, মুম্বাই ও লস অ্যাঞ্জেলেসের কয়েকটি এলাকাকেও উল্লেখ করেছে। তালিকাটিতে আরও অনেক শহর ও এলাকা রয়েছে।