নাফ নদীর একপাশে বাংলাদেশ, ওপারে মিয়ানমারের পাহাড়। সঙ্গে বিস্তীর্ণ জলরাশি, জেলেদের নৌকা, মাছ ধরার দৃশ্য আর নদীতীরের কর্মব্যস্ত জনজীবন। সব মিলিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট এলাকা নতুন করে পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীর উপস্থিতি, বিশেষ করে ছুটির দিনে জমছে ভিড়।
শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নে অবস্থিত। জেটিঘাটের শেষ প্রান্ত থেকে নাফ নদীর ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পাহাড় দেখা যায়। নদী, সীমান্ত ও স্থানীয় জনজীবনের এই সমন্বিত দৃশ্য পর্যটকদের ছবি ও ভিডিও ধারণেও আকৃষ্ট করছে।
স্থানীয়রা জানান, শুক্র ও শনিবারসহ ছুটির দিনে পর্যটকের চাপ বেশি থাকে। তবে অন্যান্য দিনেও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি দেখা যায়। অনেকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে পর্যটনবাহী জিপে, আবার কেউ ব্যক্তিগত গাড়িতে শাহপরীর দ্বীপে আসছেন। জেটিঘাটের পাশাপাশি দ্বীপের বিভিন্ন স্থানও ঘুরে দেখছেন তারা।
শাহপরীর দ্বীপে পর্যটকের আনাগোনায় স্থানীয় ব্যবসাতেও প্রভাব পড়ছে। দোকানপাটে বেচাকেনা বাড়ার পাশাপাশি শুঁটকি মাছের বিক্রিও হচ্ছে। স্থানীয় শুঁটকি ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন বলেন, কাঁচা মাছ শুকিয়ে সংরক্ষণ করা শুঁটকি পর্যটকেরা কিনে নিয়ে যান। কক্সবাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকাতেও এসব শুঁটকি বিক্রি করা হয়।
পর্যটক ইমাম হোসেন বলেন, মেরিন ড্রাইভ হয়ে শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটে পৌঁছালে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। নাফ নদীর মাঝখানে বাংলাদেশের সীমান্ত এবং ওপারে মিয়ানমারের পাহাড়ের দৃশ্য বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। বিকেলের দৃশ্য ছবি ও ভিডিও ধারণের জন্যও চমৎকার বলে জানান তিনি।
আরেক পর্যটক নাসিম উদ্দিন বলেন, কক্সবাজার ভ্রমণের পর পরিবার নিয়ে শাহপরীর দ্বীপে এসেছেন। নাফ নদীতে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য, মাছ নিয়ে নৌকার ফিরে আসা এবং তীরে মাছ শুকানোর ব্যস্ততা তার ভালো লেগেছে।
শাহপরীর দ্বীপের ইউপি সদস্য রেজাউল করিম বলেন, জেটিঘাটের সড়ক উন্নত হওয়ায় পর্যটকের আগমন বেড়েছে। এতে স্থানীয় দোকানদার ও মাছ ব্যবসায়ীরাও লাভবান হচ্ছেন। জেটিঘাটসহ আশপাশের এলাকা আরও আকর্ষণীয় করা গেলে পর্যটক বাড়বে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম অনীক চৌধুরী জানান, টেকনাফের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের পাশাপাশি পর্যটকেরা শাহপরীর দ্বীপেও আসছেন এবং তাদের উপস্থিতি বাড়ছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে ওয়াশরুম নির্মাণসহ কিছু সংস্কারকাজ করা হবে।
শাহপরীর দ্বীপের পর্যটন সম্ভাবনা বাড়ার সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় জেটিটির বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার তথ্যও এসেছে। ফলে পর্যটকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে জেটি ও আশপাশের অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি।